পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল ও সাইবার পেট্রোলিং। সম্ভাব্য নাশকতা বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে ।
আজ মঙ্গলবার র্যাব জানায়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি, সালাত, জিকিরসহ বিভিন্ন নফল ইবাদতের মাধ্যমে দিবসটি পালন করবেন। ধর্মীয় এই আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগে থেকেই স্কেলিটন ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় পর্যাপ্তসংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহলও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোনো সন্দেহজনক তৎপরতা কিংবা নাশকতার পরিকল্পনা হচ্ছে কি না, তা শনাক্তে মাঠপর্যায়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
র্যাবের আইন ওগণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম স্কেলিটন ফোর্স মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় মসজিদের ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বার্থান্বেষী মহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠী যাতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলা, নাশকতা কিংবা অন্য কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
পাশাপাশি বিতর্কিত বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াডকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো অনুষ্ঠানস্থল বা আশপাশে সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষায়িত ইউনিটগুলো প্রস্তুত থাকবে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় র্যাবের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
শুধু মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি বাড়িয়েছে র্যাব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে পারে—এমন তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য ও ছবি ছড়ানোর বিষয় শনাক্ত করতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব বলছে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো গুজব বা উসকানিমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে যাতে জনমনে আতঙ্ক কিংবা বিভ্রান্তি তৈরি করতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জাতীয় ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উৎসব ও অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করে আসছে র্যাব। এবারও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীটি প্রস্তুত রয়েছে।
শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে র্যাব। একই সঙ্গে কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ধর্মীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনকে ঘিরে একদিকে যখন মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে সম্ভাব্য নাশকতা, গুজব ও উসকানি ঠেকাতে মাঠ ও অনলাইন—দুই জায়গাতেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে র্যাব। ফলে এবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নিরাপত্তার মূল লক্ষ্য—অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন রাখা এবং যেকোনো অপতৎপরতা শুরু হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিহত করা।









