“সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আর এ লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং অতি দ্রুত কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করবে।”
সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এমনটি বলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গণমাধ্যমের সাথে আজ (বুধবার) এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থ বছরেই আমরা ৭.৫ শতাংশের কাছাকাছি মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) অর্জন করার আশা রাখি এবং ২০২০ সালের মধ্যে যে ৮ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) অর্জন করার পরিকল্পনা রয়েছে, আমরা তার আগেই তা অর্জন করতে পারবো।
পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে অবস্থিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মোঃ আবুল কালাম আজাদ; জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান; ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সসিয়াল এক্সপ্রেস-এর সম্পাদক এ.এইচ.এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারের প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন কার্যাবলীর কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রাসমূহকে সমন্বিত করেছি এবং এগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়/বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব নিরূপণ করেছি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিরূপণের জন্য একটি ফলাফল-ভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামোও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি প্রশ্নাতীত এবং তিনি নিজেই অভীষ্ট লক্ষ্য-৬ বৈশ্বিক বাস্তবায়ন কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন।
গণমাধ্যমের অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকবৃন্দ এসডিজি বাস্তবায়নে মিডিয়ার সহযোগিতা চাওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম একটি উপস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা ও গৃহিত কার্যাবলী তুলে ধরে বলেন, যেহেতু এ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নের গুরত্ব দেয়া হয়েছে, তাই সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে অর্থায়ন এবং এসডিজিসহ এ সকল বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরীতে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কে কাজে লাগানো। যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ১২.৯ মিলিয়ন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে; যা বর্তমান সময়ে বাজারে প্রবেশের জন্য অপেক্ষমান শ্রমিকের সংখ্যার তুলনায় বেশি।
এ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়নে বর্তমানে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “একটি দারিদ্র্যমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণহীন বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। তিনি বলেন, অগ্রাধিকার খাত সমূহ সনাক্ত করার মাধ্যমে মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক ব্যয়ের পরিপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে।
তিনি বলেন যে, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য আমাদেরকে নতুন ও উদ্ভাবনী অর্থ সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সরকারের পাশাপাশি সকলকে আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করতে হবে।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল দেশ হিসেবে বিশ্বস্বীকৃত। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতি দৃষ্টান্তমূলক। তিনি আশা করেন বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যথাযথ সাফল্য অর্জন করবে। তিনি এ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে ইউএনডিপি সরকারকে সকল ধরণের সহযোগিতা অব্যহত থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়নে তথ্য ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদেরকে অতিদ্রুতই এই তথ্য ঘাটতি দুর করতে হবে এবং শুধু তথ্যসমূহকে হালনাগাদ করলেই চলবে না সেগুলো গ্রহণযোগ্য হতে হবে এবং সময় সময় পর্যালোচনা করতে হবে।
ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সসিয়াল এক্সপ্রেস-এর সম্পাদক এ.এইচ.এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন যে, শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেই হবে না, তা হতে হবে অন্তর্ভূক্তিমূলক। উন্নয়নের সুফল সমাজের সবার কাছে পৌঁছাতে হবে, বিশেষ করে অতিদরিদ্র বা হতদরিদ্র জনগণ যেন সেই উন্নয়নের সুফল পায়।









