পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবেশনারী পর্যায় পর্যন্ত প্রার্থীর অবিবাহিত থাকা এবং সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন ও উচ্চবংশীয় হওয়ার শর্ত কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা সেবা বিভাগের দুই সচিব ও পুলিশ প্রধানকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পূরবী সাহা। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী পূরবী রানী শর্মা।
আইনজীবী ইশরাত হাসান রুল জারির পর বলেন, ‘পুলিশ প্রবিধানের ৭৪১ এর (চ) দফার (১) নং উপ-দফায় বলা হয়েছে, পুলিশের সাব ইন্সপেক্টটর হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই উচ্চ সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন ও উচ্চবংশীয় হতে হবে।
আর ওই প্রবিধানের ৪ নং উপ-দফায় বলা হয়েছে, প্রার্থীকে অবিবাহিত হতে হবে এবং তার শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে।
এই অবিবাহিত থাকার বিষয়টি অযোক্তিক আর সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন বা উচ্চবংশীয় হওয়ার যে শর্ত তা তো খুবই পশ্চাদপদ ধারণা এবং তা সংবিধানের ২৯ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সাথে সাংঘর্ষিক।
এমতাবস্থায় শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ সকল যোগ্যতা থাকার পর শুধুমাত্র বিবাহিত হওয়ার কারণে প্রবিধানের শর্ত অনুযায়ী ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. হোসেন খান এসআই পদে আবেদন করতে পারেননি।
তাই প্রবিধানের এসব দফা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন হোসেন খান। সেই রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করলেন।







