মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামীকে ‘জাগতিক পাপশূন্য’ বলে বিবৃতি দেয়ায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রতি ধিক্কার-নিন্দা ও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশীরা। সামাজিক মাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস ও ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযুক্ত হাজার হাজার কুর্দিকে গণহত্যার জন্য দায়ী এরদোগানের সমালোচনায় মুখর বাংলাদেশের সচেতন তরুণেরা।
নিজামীর জন্য মায়া কান্না ভরা বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে চ্যানেল আই অনলাইনসহ দেশের প্রায় সব গণমাধ্যমে। এরপরই ফেসবুকে শেয়ার করা সংবাদটি নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়।
সিরিয়া যুদ্ধের অন্যতম খলনায়ক, আইএস’র তেল ব্যবসার অংশীদার এবং ইসরাইলের মিত্র রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের এই ধৃষ্টতার সমুচিত জবাব দিচ্ছে বাংলাদেশের তরুণরাই।
রেবেকা সুলতানা রানী নামের একজন লিখেছেন,“ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাকে ব্যবহার করে নিজ দেশে অনেক নিরীহ নাগরিককে মেরেছে । ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে আইএস-কে মুসলমান নিধনে সাহায্য করছে।পাপ পুন্য বোধ তার কি আছে?”
রাশিয়ার গোয়েন্দা তথ্যে এরদোগান পরিবারের সঙ্গে আইএস’র তেল বাণিজ্য ফাঁস এবং কূটনৈতিক পরাজয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পালিত নামের একজন লিখেছেন,‘ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের লাথি-জুতা খেয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মাথার নাট বল্টু আগেই ঢিলা হয়ে গেছে…তাই আজে বাজে বকতেছে..!!! ”
ইব্রাহিম ইমু লিখেছেন,“ এরদোগানও ওদের কাতারেরই লোক। তুরস্কের সকল ক্ষমতা কুক্ষিগত করছে, ইসরায়েল, আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করতে সাহায্য করছে। আবার দিন শেষে বলছে আমি ভাল মানুষ। এতো মওদুদী, সাইদী, নিজামীর এক অন্যমুর্তি। চোরে চোরে মাসতুতোভাই।”
আহমেদ জামাল মোল্লা নামের একজন মন্তব্য করেছেন,“ এরদোগান যেভাবে সিরিয়ার মানুষদের মারছে ঠিক নিজামিও একই কাজ করেছে। ভাইয়ের প্রতি তো ভাইদের দরদ থাকবেই”।
পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার প্রতিধ্বনি করে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকার নিন্দা জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্সির ওয়েবসাইটে বলা হয়: তার (নিজামীর) বয়স অন্তত ৭০ বছর এবং আমরা মনে করি তার জাগতিক কোনো পাপ ছিলো না।
‘তারপরও তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নিন্দা’ জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তুর্কি প্রেসিডেন্সির ওয়েবসাইটে বলা হয়: সেখানে (বাংলোদেশে) এভাবেই ঘৃণার মাত্রা আরো ছড়িয়ে পড়ছে। সঠিক সরকার ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক পন্থার দাবিতে আমরা বারবার নানান পদক্ষেপ নিয়েও এই ধরনের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি রোধ করতে পারিনি। ওই বার্তায় হ্যাশট্যাগ দিয়ে লেখা হয়: ফ্রি নিজামী, স্টপ জুডিশিয়াল কিলিং।
এর আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ‘১৯৭১ সালের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিতর্কিত বিচারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়াও আমরা লক্ষ্য করছি,’ বলে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।পাকিস্তান এবং তুরস্কের বাইরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ।








