প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীকে গাইবান্ধায় ঢুকতে দেননি বলে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিহত হয়েছেন। তিনি এমপি লিটনকে জড়িয়ে আগের একটি গুলির ঘটনায় মিডিয়ার ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়েও কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেতারা এলাকায় শক্তভাবে দাঁড়াতে গেলেই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের অতর্কিত আক্রমণে একজন সংসদ সদস্য আত্মরক্ষার্থে গুলি করেন, তাও ফাঁকা গুলি, এরপরও শিশু সৌরভ গুলিবিদ্ধ হয়। এ ঘটনাও সন্দেহের বাইরে নয়। কারণ এ ঘটনা পত্র-পত্রিকায় আংশিকভাবে প্রকাশের পর লিটনের বৈধ অস্ত্র জব্দ করা হয়, সরিয়ে নেয়া হয় পুলিশ প্রহরা। সে সুযোগে বাড়িতে ঢুকে লিটনকে হত্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উদ্বেগজনক। উল্লেখ্য গত বছরের ২ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোপালচরণ গ্রামের শিশু শাহাদাত হোসেন সৌরভ গুলিবিদ্ধ হয়, যা সাংসদ লিটনের বন্দুক থেকে ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করে শিশু সৌরভের পরিবার। এ নিয়ে দেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এমনকি এও বলা হয়, এমপি লিটন মদ্যপ অবস্থায় গুলি করে শিশুকে আহত করেছিলেন। এক পর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশি পাহারা তুলে নেয়া হয়। ওই ঘটনায় লিটনকে একমাত্র আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন সৌরভের বাবা সাজু মিয়া। মামলায় গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরার গ্রেপ্তার হন লিটন। পরদিন গাইবান্ধার মুখ্য বিচারিক হাকিম তাকে কারাগারে পাঠান। পরে গত ৮ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। চলতি বছরের ১ এপ্রিল এ মামলায় লিটনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ মেনে নিলে, এটি একটি গুরুতর বিষয় যে সরকারবিরোধীরা সরকারের ভেতরই লুকিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় গণমাধ্যম যদি বাড়াবাড়ি করে থাকে তাহলে প্রশাসনও কি বাড়াবাড়ি করেনি? না হলে অভিযোগপত্র কেন দেয়া হলো? আর তিনি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় জড়িয়ে গেলেও এমপি থাকা পর্যন্ত তার নিরাপত্তাতো প্রত্যাহার করার কথা নয়। কে সেটা করেছিলেন? নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে কে সহায়তা করলো? যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে এমপি লিটনের সাহসী ভূমিকা তাকে এলাকায় যেমন জনপ্রিয় করে তোলে তেমনি তিনি জামায়াত শিবিরের টার্গেটে পরিণত হন। সেটা জানার পরও তার নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল কেন? কে সেটা করেছিলেন? এমপি লিটন হত্যায় যেই জড়িত থাকুক না কেন তার বা তাদের বিচার যেমন করতে হবে তেমনি কেউ যদি নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে হত্যার সুযোগ করে দিয়ে থাকে তাহলে তাকেও খুঁজে বের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। প্রেক্ষাপট তৈরির ক্ষেত্রে গণমাধ্যম যদি আসলেই কোন ভূমিকা রেখে থাকে তাহলে গণমাধ্যমকেও এ বিষয়ে আত্মসমালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কও হতে হবে। ঘটনার ভেতরে ঢুকে যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সেটাকেও আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।








