দুই জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের পরের দিনই ইউএনও গাজী তারিক সালমনের মামলার বিচারক বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. আলী হোসাইনকে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলির প্রস্তাব করেছে আইনমন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষক (অতিরিক্ত জেলা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানকে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) হিসেবে বদলির প্রস্তাব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদেরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে ওই বিচারকের বদলির সুপারিশ করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে চিঠি পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ।
ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরুদ্ধে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. আলী হোসাইনের আদালতে দায়ের করা মামলায় জামিন বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। যা অত্র বিভাগের গোচরীভূত হয়েছে।’
“তাছাড়া উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটনা পরবর্তী সময় সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে সার্কিট হাউজে অবস্থানের বিল পরিশোধ না করা এবং গ্রীন লাইন পরিবহনে যাতায়াত ভাড়া পরিশোধ না করা সংক্রান্ত অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। যার দরুণ বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে নানাবিধ বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে”।
ঘটনার পর গত রোববার সুপ্রিম কোর্টের কাছে দেয়া লিখিত ব্যাখ্যায় বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ আলী হোসাইন বলেছিলেন, ইউএনও গাজী তারিক সালমনের জামিন নামঞ্জুরের কোন আদেশ ওইদিন তিনি দেননি।
ব্যাখ্যায় তিনি আরো বলেন, ‘আদালতের কার্যপ্রণালী শেষে এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় এসে শুনি ইউএনও-র জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে মর্মে অনলাইন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তার জামিন আবেদন একটি বারের জন্যও নামঞ্জুর করা হয়নি। ফলে জেল হাজতে পাঠানোর কোন প্রশ্নই উঠে না।’
এর আগে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার কারণে সোমবার বরিশালের জেলা প্রশাসক গাজী সাইফুজ্জামান এবং বরগুনার জেলা প্রশাসক ড. মহাঃ বশিরুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।
গাজী তারিক সালমন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকাকালে ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানের একটি আমন্ত্রণপত্র প্রকাশ করেন। ওই আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায় পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া একজন শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাপানো হয়।
ওই ছবিতে বঙ্গবন্ধুকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে মানহানী করা হয়েছে এমন অভিযোগে গত ৭ জুন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদুল্লাহ সাজু।
গত ১৯ জুলাই ওই মামলায় জামিন চাইতে গেলে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট্র আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন প্রথমে তাকে কারাগারে পাঠান। তবে কয়েক ঘণ্টা পর তাকে আবার জামিন দেন।
নানা সমালোচনার মুখে রোববার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নেন বাদী। তার আগে দল থেকে তাকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় অাওয়ামী লীগ।







