বাংলাদেশে ঢাকা-উত্তর পশ্চিম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর উন্নয়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার (৩০ কোটি ডলার) একটি ঋণ চুক্তি সাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার।
চুক্তিতে সাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং বাংলাদেশে এডিবির আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাস।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এই চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়: দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) জোটের আওতায় প্রথম দফায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে এডিবি। এর মধ্যে বুধবার ৩০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি সাক্ষর হয়।
অনুষ্ঠানে মনমোহন পারকাস বলেন: এই প্রকল্প দেশের দ্বিতীয় ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে বাণিজ্য বাড়াতে সহায়তা করবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরো জোরদার করবে। এর ফলে পরিবহণ খরচ কমবে এবং ঢাকার সঙ্গে দেশর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবহণ যোগাযোগ আরো সহজ হবে।
দেশের উত্তর-পশ্চিম করিডোরের সঙ্গে সংযোগ উন্নয়নের লক্ষ্যে এডিবি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। ১৯৯৪ সালে যমুনা সেতু প্রকল্পের অনুমোদনের সময় সংস্থাটি অর্থ সহায়তা দিয়েছে।
সাসেক আন্তঃসংযোগ প্রতিষ্ঠায় এডিবি প্রথম দফায় ২০১২ সালে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ দেয়। এ অর্থ ব্যয় করে জয়দেবপুর-এলেঙ্গা মহাসড়কের উন্নয়ন করা হয়। তাছাড়া ভুটানের সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বুড়িমারি ও বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো হয়েছে এডিবির প্রথম অর্থায়নে।
দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) জোটের আওতায় এলেঙ্গা থেকে হাটিকামরুল হয়ে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার-লেনে উন্নীত করতে প্রথম দফায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে এডিবি।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়িয়ে অর্থনৈতিক উন্নতি নিশ্চিত করতে দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) জোটের আওতায় সহায়তা দিয়ে আসছে এডিবি। ২০০১ সাল থেকে সাসেক সদস্য দেশগুলো এ খাতে ৯১৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে পরিবহন খাতের ৩১ প্রকল্পে বিনিয়োগ হয়েছে ৭৩০ কোটি ডলার।
এডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাসেক আন্তঃসংযোগে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহনকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে মোট যাত্রীর ৭০ শতাংশই সড়ক পথে যাতায়াত করে। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়ক পথের ব্যবহার হয় প্রায় ৬০ শতাংশ। এছাড়া প্রতিবছর যাত্রী ও পণ্য পরিবহণ ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৭ কোটি ডলার। এডিবির ঋণের বাইরে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪৭ কোটি ২৬ লাখ ডলার ব্যয় করা হবে। এডিবির তহবিল থেকে কয়েক দফায় অর্থ ছাড় করা হবে।
প্রথম দফায় তুলনামূলক কঠিন শর্তের অরডিনারি ক্যাপিটাল রিসোর্স (ওসিআর) তহবিল থেকে ২৫ কোটি ও সহজ শর্তের এশীয় উন্নয়ন তহবিল (এডিএফ) থেকে ৫ কোটি ডলার দেবে এডিবি। এ হিসেবে প্রথম পর্বে সহায়তা হিসেবে আসবে ৩০ কোটি ডলার।
২০২৭ সালের আগস্টের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মোট চার কিস্তিতে অর্থ ছাড় করবে এডিবি। তা ছাড়া এ প্যাকেজের আওতায় সড়ক পরিবহণ মহাপরিকল্পনা হালনাগাদ করতে কারিগরি সহায়তা হিসেবে ২০ লাখ ডলার দেবে এডিবি।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়: গত বছরের শেষের দিকে ১২ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১০ হাজার ১৩৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিদেশি সহায়তা পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জানা যায়, সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশনের (সাসেক) বাংলাদেশে ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে এ সড়কটি রয়েছে। চার দেশীয় অর্থনৈতিক করিডোর বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের (বিসিআইএম) তালিকায় রয়েছে সড়কটি। উত্তরবঙ্গে শিল্পের প্রসারসহ বুড়িমারি ও বাংলাবান্ধা হয়ে ভারত ও নেপালের সঙ্গে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠায় এ মহাসড়ক ভূমিকা রাখবে।







