সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে নভেম্বরের মধ্যে রিভিউ করার কথা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এর আগে বললেও এই সময়ের মধ্যে রিভিউ করা নিয়ে মঙ্গলবার সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে রিভিউ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, ‘এখন রিভিউ ফাইল করলেও লাভ হবে না। মূল আবেদনটি শুনেছিলেন আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতি। এখন আমাদের বিচারকের সংখ্যা পাঁচজন। রিভিউয়ের নরমাল নিয়ম হলো যেই ক’য়জন মূল মামলাটা শুনেছেন তত সংখ্যক বা তার থেকে বেশি সংখ্যক বিচারপতিরা রিভিউ শুনানি করে পুনর্বিবেচনা করতে পারবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলেছিলাম এ মাসের মধ্যে অর্থাৎ নভেম্বরের মধ্যে রিভিউ করব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে করতে পারব না। তবে আমরা গতকাল আমরা সার্টিফাইড কপি পেয়েছি। তাই আমাদের হাতে সময় আছে। কপি পাওয়ার পর থেকে আমরা আরও ২৭ দিন সময় পাব। এ সময়ের মধ্যে আমরা রিভিউ করব।’
কিন্তু এর আগেও একবার সার্টিফাইড কপি পাওয়ার কথা বলেছিলেন। তাহলে সোমবার যে কপিটা পেলেন সেটা কি? এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘কয়েকটি কপির জন্য আবেদন করা হয়। এখন যে সার্টিফাইড কপি দিয়ে আবেদন করলে সময় বেশি পাওয়া যাবে সে কপি দিয়েই আমরা আবেদন করব।’
এদিকে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক গত ৪ নভেম্বর বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পূণর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে চলতি মাসেই আবেদন করা হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা জানান।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করা হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন।
ওই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। এরপর হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। গত ৮ মে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের উপর শুনানি শুরু হয়।
গত ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন। আপিল খারিজের ওই রায়ের ফলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ই বহাল থাকে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১ আগস্ট ৭৯৯ পৃষ্ঠার রায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায় অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের সুপারিশ করার ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরে যায়। বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে, গণতন্ত্র, রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, সুশাসন, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।








