দেশ ও দেশের বাইরে প্রায় সব ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে সদর্প বিচরণ সাকিব আল হাসানের। আইপিএল, বিগব্যাশ, সিপিএল, বিপিএল, পিএসএল, এসপিএল সবখানেই আছেন টাইগার অলরাউন্ডার। হয়ে উঠেছেন টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা। আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে সেরাটা ফেরি করতে যাওয়ার আগে উপভোগ ও রোমাঞ্চের কথাই বলে যাচ্ছেন সাকিব। বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজের প্রসঙ্গেও।
জ্যামাইকা তালাওয়াসের হয়ে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) খেলতে রোববার রাতে রওনা হচ্ছেন সাকিব। সকালে মিরপুরে এসে সারলেন সকল আনুষ্ঠানিকতা। গুছিয়ে নিলেন লাগেজ, কিটস ব্যাগ। বিসিবিতেই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।
ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট মানেই আপনার সরব উপস্থিতি। কেমন রোমাঞ্চ কাজ করে?
সাকিব: প্রতিটি টুর্নামেন্টেই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়। মজা থাকে, রোমাঞ্চ থাকে। গত ১০-১৫ বছর ধরে ক্রিকেটই খেলছি। যেখানেই খেলি, মজাই লাগে। মজার কারণেই খেলে যাচ্ছি।
আইপিএল বা সিপিএল, আপনার কাছে কি পার্থক্য মনে হয়?
সাকিব: আইপিএলে হয় কি, সেখানে প্রতি দলে ১০ জন বিদেশি খেলোয়াড় থাকে। এ কারণে সেখানে প্রতিযোগিতাটা বেশি। কোন চারজন খেলবে, ভালো খেলেও পরের ম্যাচে কম্বিনেশনের কারণে বাদ পড়বে কিনা, এসব থাকে। সিপিএল বা পিএসএলে যেটা হয়, চারজন মোটামুটি নির্ধারিতই থাকে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে তারা পরিবর্তন করে না। এছাড়া আর কোনও পার্থক্য দেখি না। সব জায়গায় পরিবেশ এবং খেলার কোয়ালিটিই ভালো।
উপভোগের সুযোগ কোথায় বেশি?
সাকিব: সেটা সব জায়গায়ই থাকে। খেললে ভালো। খেলার প্রতিযোগিতা থাকে। সেটা একটা উপভোগের ব্যাপার। না খেললে খেলার জন্য অপেক্ষা থাকে। সেটা অন্যরকম ব্যাপার।
সিপিএল কি একটু বেশি উপভোগ করেন?
সাকিব: অন্য টুর্নামেন্টের চেয়ে এটার পরিবেশ অন্যরকম। খেলার সিরিয়াসনেসটা মাঠেই বেশি। মাঠের বাইরে তেমন কোনও ব্যাপার নেই। জায়গাগুলো খুব সুন্দর। সবাই রিলাক্স থাকতে পছন্দ করে। সেদিক থেকে বলতে গেলে অনেক বেশি এনজয় করি।
গেইলের দলে খেলার অভিজ্ঞতা কেমন?
সাকিব: এ বছর তো আর সে আমাদের দলে নেই। তবে গত বছর খুব উপভোগ করেছি। তার সঙ্গে বিপিএলেও এক দলে খেলেছি। দ্বিতীয় মৌসুমে সম্ভবত।

মিরাজও খেলছে, এটা কতটা ইতিবাচক?
সাকিব: আমি তো শিওর যে, এবছর যদি পুরো টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ থাকতো, তাহলে আরও দুই একজন যেতে পারতো। দুই একজনের নামও বলাবলি হচ্ছিলো। কিন্তু আমাদের তো খেলা আছে। টাইমিং ফিক্সড থাকে না। অন্য টিমগুলোর জন্য আমাদেরকে নিতে ঝামেলা হয়ে যায়। কারণ পরে যদি বলা হয়, টিম আসবে; তখন আমাদের ফিরতে হবে।
অন্যান্য দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা কতটা হয়?
সাকিব: এখন তো অন্যরকম কথাবার্তা হয়। আমাদের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে জানতে চায়। দল হিসেবে আমরা কিভাবে এতো ভালো করছি, সে বিষয়ে প্রশ্ন করে। আমরাও বড় দলের খেলোয়াড়দের মতো কথা বলতে পারি। চিন্তা করি যে, এখন এভাবে কথা বলা যায়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজে বোলিং করা কতটা সহজ কিংবা কঠিন?
সাকিব: একটু সহজই। কারণ সেখানে স্পিনারদের জন্য উইকেটে কিছু হেল্প থাকে।
অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার জন্য মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত?
সাকিব: আগে অস্ট্রেলিয়া আসুক। বড় একটা গ্যাপ গেল। তাদের আসার মাধ্যমে মৌসুম শুরু হবে। তারা যদি না আসে, তাহলে সরাসরি সাউথ আফ্রিকা গিয়ে আমাদের জন্য খেলাটা কঠিন হবে। আশা করি অস্ট্রেলিয়া আসবে এবং ভালো একটা সিরিজ হবে।
ক্যাম্পে অনুশীলন কেমন হল?
সাকিব: প্রতিটি সিরিজের পর যদি দুই-তিন সপ্তাহের ব্রেক হয়, কন্ডিশনিং ক্যাম্প করা যায়; তাহলে খেলোয়াড়দের জন্য সেটা ভালো। এতে ফিটনেস নিয়ে বা ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে কাজ করা যায়। একজন খেলোয়াড় তার অনেক ব্যাপার চিহ্নিত করে কাজ করতে পারে। খেলার মধ্যে থাকলে এগুলো করা যায় না।

অস্ট্রেলিয়া আসলে মিরপুরেই (সিরিজের প্রথম টেস্টে) আপনার ৫০তম টেস্ট পূর্ণ হবে। অনেক বছর লেগে গেল?
সাকিব: আর কয়েক বছর আগের কথা বললে, মনে হয় ৩০ টেস্ট খেলতাম। সে হিসেবে ঠিক আছে! আশা করি অস্ট্রেলিয়াও আসবে, আমিও ফিট থাকবো এবং ভালো একটা সিরিজ হবে।
নতুন মৌসুমে নতুন কী করতে চাইবেন?
সাকিব: অবশ্যই উন্নতি চাইবো। গত বছরের তুলনায় আরও ভালো করতে চেষ্টা করব। উন্নতির তো শেষ নাই। যে জায়গাগুলোতে আমার মন মতো কিছু হয় নাই, সেখানে আরও ভালো করতে চাই।
আগামী ৪ আগস্ট মিরাজের দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স ও সেন্ট লুসিয়া স্টারসের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে সিপিএলের এবারের আসর। বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে সাকিবের দল জ্যামাইকার প্রথম ম্যাচ ৫ আগস্ট।








