সবচেয়ে কমবয়সী নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ এর মত অমর বক্তৃতার অহিংস মুক্তি আন্দোলনের দিশারী মার্টিন লুথার কিং এর ৮৯ তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আমেরিকান সংস্কৃতি কেন্দ্র ইমকে সেন্টারে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের জীবন ও অবদান স্মরণে অনুষ্ঠিত উনমুক্ত আলোচনায অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যায়। অনুষ্ঠানে শ্রোতাদের মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের জীবন এবং কাজ, তার উপর গান্ধিয়ান দর্শনের প্রভাব, আমেরিকান নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং ঔপনিবেশিক যুগ-পরবর্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সমতার সংগ্রামগুলোর মধ্যে মিল ও ২১ শতকে কিং-এর প্রাসঙ্গিকতা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হবে।
আমেরিকান শিক্ষক ড. লিও জে পেরেরা, ভারতে এবং যুক্তরাজ্যে পড়াশোনা করা দুই শিক্ষার্তী আলোচনায় অংশ নেবেন।
১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি জন্মেছিলেন তিনি। পাদ্রি থেকে হয়েছিলেন মানবাধিকার কর্মী। আমেরিকার ভিয়েতনাম যুদ্ধের ছিলেন ঘোর বিরোধী। ছিলেন দারিদ্র্যমুক্তি আন্দোলনের নেতা। ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে লাখো মানুষের মিছিলের শেষে দেওয়া তার সেই অমর বক্তৃতা আজো তাকে অমর করে রেখেছে। এই বক্তৃতা কখনো ভুলার নয়। এখানে তাঁর সেই বক্তৃতার সংক্ষেপিত অংশ অনুবাদ করে দেওয়া হলো:
এই দিনে আমি আপনাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে খুশি। ইতিহাস এই দিনটি মনে রাখবে, আমাদের জাতির ইতিহাসে মুক্তির মহান সমাবেশ হিসেবে। যে মহান আমেরিকানের প্রতীকী ছায়াতলে আজ এখানে আমরা দাঁড়িয়ে, শতবর্ষ আগের এই দিনে তিনি মুক্তির সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। অবিচারের আগুনে ঝলসে যাওয়া নিযুত নিযুত নিগ্রো দাসের সামনে সেই যুগান্তকারী ঘোষণা আশার মশাল হয়ে জ্বলে ছিল। বন্দিত্বের দীর্ঘ রাতের পর সেটা ছিল এক আনন্দময় সকাল।
কিন্তু ১০০ বছর পর মর্মান্তিক সত্য হচ্ছে, নিগ্রো আজও মুক্ত নয়। শতবর্ষ পরও নিগ্রোরা আজও দুঃখজনকভাবে বিচ্ছিন্নতার শেকলে আর বৈষম্যের জিঞ্জিরে বাঁধা। শতবর্ষ পরও নিগ্রোদের জীবন যেন ধন-সম্পদের বিরাট সমুদ্রের মাঝখানে এক নিঃসঙ্গ দারিদ্র্যের দ্বীপ। শতবর্ষ পরও নিগ্রোরা মার্কিন সমাজের এক কোণে নির্জীব দশায় পড়ে আছে, হয়ে আছে নিজভূমে নির্বাসিত। তাই আজ আমরা এখানে আমাদের দুর্দশাকে তুলে ধরতে এসেছি।
যত দিন না নিগ্রোরা তাদের নাগরিক অধিকার ভোগ করতে পারবে, তত দিন আমেরিকায় বিরাম ও শান্তি থাকবে না। যত দিন না ন্যায়ের সুদীপ্ত দিন আসছে, তত দিন বিদ্রোহের ঘূর্ণিঝড় আমেরিকার ভিতকে কাঁপিয়ে দিতে থাকবে।
বন্ধুরা, আজ আমি আপনাদের বলছি, বর্তমানের প্রতিকূলতা ও বাধা সত্ত্বেও আমি আজও স্বপ্ন দেখি। আমার এই স্বপ্নের শেকড় পোঁতা আমেরিকান স্বপ্নের গভীরে।
আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন এই জাতি জাগবে এবং বাঁচিয়ে রাখবে এই বিশ্বাস: ‘আমরা এই সত্যকে স্বতঃসিদ্ধভাবে গ্রহণ করছি: সব মানুষ সমান।’
মার্টিন লুথারের নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় আমেরিকার বর্ণবাদবিরোধী ২০০ বছরের লড়াই পরিণতি পায়। যদিও সংগ্রামের তুঙ্গ মুহূর্তে আততায়ীর গুলি কেড়ে নেয় এই মহাপুরুষের জীবন। ১৯৬৮ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে শ্বেতাঙ্গ ঘাতকের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।








