মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে নর্থ কোরিয়া। বৈরি প্রতিবেশী সাউথ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের দায়িত্বগ্রহণের (১০ মে) পর এ নিয়ে দুইবার ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা চালালো দেশটি।
সাউথ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ বলেন, পুকচ্যাং এলাকা থেকে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ক্ষেপনাস্ত্রটি পূর্ব দিকে ৫০০ কিলোমিটার (৩০০ মাইলেরও বেশি) দূরে গিয়ে পড়ে বলেও জানায় সাউথ কোরিয়া।
এটা জাপানের সাগরসীমায় (ইস্ট সি) পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তা জাপানের অর্থনৈতিক অঞ্চলে পড়েনি বলে নিশ্চিত করেন জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিহাইদ সুগা। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এখানকার জাহাজ বা প্লেনে কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এই পরীক্ষার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটা নিঃসন্দেহে জাতিসংঘের নির্দেশনার লঙ্ঘন। নর্থ কোরিয়ার বারবার উস্কানিমূলক এমন কাজ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
পরমাণু অস্ত্র পরিহারে জন্য নর্থ কোরিয়ার সাথে আলোচনার কথা বলেছিলেন উদারপন্থী সাউথ কোরিয়ান প্রেসিডেন্ট। সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তার নতুন মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শীর্ষ নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টাদের নাম ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রবিবার নতুন করে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো নর্থ কোরিয়া।
হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মধ্যপাল্লার ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেমনটি ফেব্রুয়ারিতেও নর্থ কোরিয়া পরীক্ষা চালিয়েছিলো। ফেব্রুয়ারির সেই ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিলো পুকগুকসং-২, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিষেকের পর নর্থ কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ছিলো।
নর্থ কোরিয়ার কেন্দ্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে, ‘নতুন ধরনের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা’ বলে অভিহিত করে।
গত সপ্তাহের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষটিকে এখন পর্যন্ত নর্থ কোরিয়ার সবচেয়ে সফল পরীক্ষা বলেন বিশ্লেষকরা। ক্ষেপনাস্ত্রটিও বিবেচিত হয় সবচেয়ে উন্নততর বলে। ১৪ মে’র সেই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম হুয়াসং-১২, যা ৩০ মিনিট উড়ে বেড়ায় এবং রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্টক অঞ্চল থেকে মাত্র ৬০ মাইল দূরুত্বে পড়ে। এমনটি জানিয়েছিলো রাশিয়া।
আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) এর প্রতিষ্ঠার কাজকে ত্বরান্বিত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম পরমানু ওয়ারহ্যাড স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নর্থ কোরিয়া। তবে ট্রাম্প অঙ্গীকার করেছেন, তা কখনোই হবে না। এখন পর্যন্ত সাউথ কোরিয়া ও জাপানে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপনাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে পিয়ংইয়ং।
বর্তমানে সৌদি আরবে সফরে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকে মার্কিন কর্মকর্তারা ডেইলি মেইলকে জানান, নর্থ কোরিয়া মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (এমআরবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে। এই ব্যবস্থায় গত ফেব্রুয়ারিতে তারা এমন পরীক্ষা চালিয়েছিলো। সাম্প্রতিক এই ধরনের তিনটি পরীক্ষায় ক্ষেপনাস্ত্রের সীমা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১০ বার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর উদ্যোগ নিয়েছে নর্থ কোরিয়া, সময়কালটি ট্রাম্পের অভিষেকের পর থেকেও।
সাউথ কোরিয়া প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গতিতে তাদের পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করে বিশ্লেষকরা।







