তিন বছরের ছোট্ট মেয়ে স্কারলেট টিপটন। গান গাইতে ভালোবাসে, নাচে, অন্য শিশুদের মতোই ‘মোয়ানা’ দেখলে টিভির পর্দায় তাকিয়ে থাকে। প্রতি বছর হ্যালোইনে ভূতুরে সাজ সাজতেও ভালোবাসে সে। তবে তার কস্টিউম সবার থেকে কিছুটা আলাদা হয়।
স্কারলেটের বয়স যখন মাত্র কয়েকমাস, তখন সে তার বাম হাতটা হারায়। ক্যানসারের কারণে হাত হারাতে হয় তাকে। তখন থেকেই তার মা তাকে দারুণ সব কস্টিউম তৈরি করে দেন হ্যালোইনের জন্য যেন তার হাত নেই বলে কোনো আফসোস না থাকে।
স্কারলেটের মা সিমন টিপটন বলেন, ‘স্কারলেট জানায় ও এমন কিছু সাজতে চায় যা দেখে লোকে ভয় পাবে। গত বছর আমি তাকে হ্যালোইন স্টোরে নিয়ে যাই এবং ঘুরে দেখতে বলি। তার পছন্দ হয় একটি কঙ্কালের পোশাক। সেটা দেখেই তাকে সাজানোর বুদ্ধি পেয়ে যাই।’
টিপটন বেশ কয়েকটি প্লাস্টিকের তৈরি হাড় কিনেন এবং সেগুলোকে একসঙ্গে করে একটি নকল হাত তৈরি করেন। তার উদ্দেশ্য ছিল স্কারলেট হাতটি বহন করবে এবং মানুষকে ভয় দেখাবে। টিপটন জানান, তার তৈরি এই পোশাক খুবই পছন্দ করেছে স্কারলেট। এতটাই পছন্দ করেছে যে হ্যালোইন উৎসব শেষ হওয়ার পরেও সে হাতটিকে বয়ে বেড়ায় এবং সেটাকে সে নিজের আরেকটি হাত বলে।
এই বছরও স্কারলেট ভয়ংকর সাজে সাজতে চায়। তাই টিপটন জানান, তিনি একটি এক ডানার দাঁড়কাক এর পোশাক তৈরি করেছেন স্কারলেটের জন্য। এই পোশাকটিও দারুণ পছন্দ হয়েছে স্কারলেটের।
নির্ধারিত সময়ের চার সপ্তাহ আগেই জন্মেছিল স্কারলেট। তার বাম হাতটা ছিল অনেক বড় এবং ফোলা। ডানহাতের প্রায় তিনগুণ বড় ছিল সেটা। প্রায় ৫ মাস অনেক হাসপাতালে ছোটাছুটি এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে ধরা পরে তার হাতে একটি টিউমার আছে যেটা ক্যানসারে রূপ নিয়েছে। ২১টি সার্জারি, ৫ মাস কেমো থেরাপি এবং ১ বছর ফিজিক্যাল থেরাপি দেয়ার পরে সুস্থ হয়ে ওঠে স্কারলেট। অন্যদের চাইতে সে আলাদা। কিন্তু সে জন্য কখনই থেমে থাকে না স্কারলেটের হ্যালোইন উদযাপন। দ্য মাইটি।







