প্রথম টেস্টে মোহাম্মদ আব্বাস নামে যে জুজুর ভয় ঘাড়ে চেপেছিল অস্ট্রেলিয়ার, দ্বিতীয় টেস্টে সেটি হয়ে উঠল আরও ভয়ঙ্কর। দুই ইনিংসে অজিদের যে ২০ উইকেট সাজঘরে ফিরেছে, তার ১০টি শিকার আব্বাসের। আরব আমিরাতের মাটিতে পাকিস্তানি পেসারের রেকর্ড গড়ার দিনে সিরিজ হেরে বসেছে টিম পেইনের দল।
আবুধাবি টেস্টের একদিন বাকি এখনও। তার আগেই চতুর্থ দিনে ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তানকে ৩৭৩ রানের বিশাল এক জয়ের উল্লাস করতে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসেও তার দেড়শর আগেই গুটিয়ে গিয়েছিল।
তাতে দুই ম্যাচের সিরিজকে ১-০তে জিতে ট্রফিটা নিজেদের করে নিয়েছে সরফরাজ আহমেদের দল। প্রথম টেস্টেও দুর্দান্ত খেলেছিল পাকিস্তান। কিন্তু অজি ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় সেই টেস্ট ড্রয়ে সমাপ্ত হয়েছিল।
পাকিস্তানের দেয়া ৫৩৮ রানের লক্ষ্য টপকে জিততে হলে অতীতের সব রেকর্ডকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাতে হত অজিদের। প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের যে নমুনা দেখিয়েছিল তারা, দারুণকিছু করে দেখানো তাতে দুঃস্বপ্নই মনে হচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকরা শঙ্কার বেশিকিছু পাননি শেষঅবধি। তার উপর নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান উসমান খাজার চোট অজিদের চাপটাকে বানিয়ে দেয় পাহাড়সম।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া, সঙ্গে খাজার চোট। মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়ার নড়বড়ে ব্যাটিংয়ে মনমতো উইকেটশিকার করেন আব্বাস। প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সমান উইকেট। ক্যারিয়ার প্রথমবার ম্যাচে ১০ উইকেটের সঙ্গে গড়লেন অন্যান্য কীর্তিও। দুই টেস্ট মিলিয়ে আব্বাসের শিকার ১৮ উইকেট! আরব আমিরাতের মাটিতে দুই ম্যাচ সিরিজে এই প্রথম ১৫ উইকেটের বেশি পেলেন কোনো বোলার।
আব্বাসের কীর্তি এখানেই শেষ নয়। কমপক্ষে ১০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন এমন পাকিস্তানি পেসারদের মধ্যে ৫০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ছিলেন মোহাম্মদ আসিফ। ছিলেন লিখতে হচ্ছে কারণ আব্বাস ছাড়িয়ে গেছেন তাকেও। ১০ ম্যাচে এই পেসারের উইকেট সংখ্যা এখন ৫৯!
যেভাবে এগিয়ে চলেছেন তাতে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বোলারদের শীর্ষস্থানটা এখন থেকেই দেখা শুরু করতে পারেন আব্বাস। এক সময় টেস্টের শীর্ষস্থানে থাকা প্রোটিয়া পেসার ডেল স্টেইন আব্বাসের বোলিং দেখে টুইটার সেটি লিখেই দিয়েছেন, ‘আমি কিন্তু টেস্টে এক নম্বর বোলারটাকে দেখতে পাচ্ছি… সে মোহাম্মদ আব্বাস।’







