রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৬ এপ্রিল ভোরে সাংবাদিক শফিক রেহমানকে ইস্কাটন গার্ডেন রোডের বাসা থেকে গ্রেফতার করে মিন্টো রোড ডিবি কার্যালয়ে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। পুলিশের দাবি, সজীব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পেয়েই শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়।
শফিক রেহমানের গ্রেফতারের ঘটনায় পক্ষে-বিপক্ষে সর্বত্র চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। গণমাধ্যমের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমগুলোও সেই তর্কে গরম হয়ে উঠেছে। ফেসবুকে এ নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ. ই. মামুন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন:
‘শফিক রেহমানকে নিয়ে লিখবো না ভেবেছিলাম। তার গ্রেপ্তারের খবরে অনেকে শোকাহত হয়েছেন, অনেকে এতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন আবার কেউ কেউ আনন্দিতও হচ্ছেন। সাংবাদিক হিসেবে কেন আমি তার পক্ষে লিখছি না, তার পাশে দাঁড়াচ্ছি না- এসব নিয়ে কেউ কেউ আমাকে কমবেশি প্রশ্নবাণও হানছেন।
শফিক রেহমানের সাপ্তাহিক যায় যায় দিন একসময় বাংলাদেশে খুবই জনপ্রিয় পত্রিকা ছিলো সন্দেহ নেই। সেই জনপ্রিয়তা যতটা পত্রিকাটির স্বৈরাচার বিরোধী রাজনৈতিক চরিত্রের কারণে, ততটাই মইন-মিলার প্রেম, যৌনতা এবং রেহমান সাহেবের লেখনীর মুন্সিয়ানার জন্য।
পরবর্তীকালে অবশ্য দৈনিক যায় যায় দিনে এসে তিনি ততটাই ব্যর্থ হয়েছেন, সরকারি প্লট নিয়ে সেখানে আলিশান অফিস করে পত্রিকা চালাতে না পেরে, সাংবাদিক কর্মচারিদের বেতন না দিয়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টার খবরও আমাদের অজানা নয়। আমার ধারণা শফিক রেহমানের সাংবাদিক জীবনের মৃত্যু ঘটেছে সাপ্তাহিক যায় যায় দিনের মৃত্যুর সাথে সাথে।
তার পরেও কোনো লেখার কারণে, কোনো টক শো এর বক্তব্যের কারণে যদি তাকে গ্রেপ্তার করা হতো তাহলে ভিন্ন কথা ছিলো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পুত্র কেন, একজন সাধারণ মানুষকেও হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত অভিযোগে যখন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়, রিমান্ডে নেয়া হয় তখন তার সাংবাদিক পরিচয় আমার সামনে আসে না, অপরাধী- ষড়যন্ত্রকারী চরিত্রই সামনে আসে।
শফিক রেহমানের ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র সম্পর্কে ব্যক্তিগতভাবে প্রথম জেনেছিলাম ২০০২ সা্লে, আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান একুশে টিভি বন্ধ হবার সময়। বিএনপি জামাত জোট সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এই প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করার জন্য পেছন থেকে যে ক’জন মানুষ কলকাঠি নেড়েছেন, শফিক রেহমান তাদের অন্যতম। যেদিন একুশে টিভি বন্ধ হয়, সেই রাত্রে আমরা একুশের কর্মীরা যখন অফিসে কান্নাকাটি করছি, শফিক রেহমানরা তখন একুশের বন্ধ হওয়া সেলিব্রেট করার জন্য সুরা পার্টিরও আয়োজন করেছিলেন বলে জেনেছি।
যারা বলছেন সরকার ভিন্নমত সইতে পারে না বলে তাকে গ্রেপ্তার করেছে, তাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই, গত ৫/৭ বছরে তিনি কি এমন ভিন্নমতের সাংবাদিকতা করেছেন বা টিভি অনুষ্ঠান করেছেন এক চটুল লাল গোলাপ ছাড়া?’







