ভয়াল একুশে আগস্টের আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় কেড়ে নিয়েছিলো ২৪ তাজা প্রাণ। বারো বছর পেরিয়ে এখনও বিচার পাওয়ার আশায় স্বজন হারানোর দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে আছে নিহতদের পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় তারা এখন কিছুটা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল।
৪ বছর বয়সে বাবাকে হারানো আফসানার কাছে তার বাবার কথা জানতে চাওয়া খুব সহজ ছিলো না, তারপর যা পেলাম…. তা শুধু চোখের জল। ২১ আগস্টের গ্রেণেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ সেন্টু। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা ছাড়া বড় হয়ে ওঠা আফসানাকে নিয়েই এখন আইরিন সুলতানা বেবির জীবনযাপন। বিবাহ বার্ষিকীর একদিন আগে স্বামী হারানো বেবির স্মৃতিতে সব কিছুই দগদগে।
২১ আগস্ট গ্রেণেড হামলায় নিহত মোস্তাক আহমেদের স্ত্রী আইরিন সুলতানা বেবি বলেন, আমাদের তো কিছু চাওয়ার নেই। কেউ টাকা পয়সা-সাহায্য সহযোগিতা করতে চায়। আমাদের তো এগুলোর প্রয়োজন নেই। আপা যদি বছরে একবারও বলেন তোমাদের কোন চিন্তুা নেই, আমি তোমাদের পাশে আছি। এতোটুকু সান্তনাই আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিলো। আমাদের এর বেশি আর কিছু চাওয়ার নেই।
২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে নৃশংস ও বর্বরোচিত গ্রেণেড হামলা কেড়ে নিয়েছিলো ২৪ জন নেতাকর্মীর প্রাণ। তাদেরই একজন চাঁদপুরের মতলব উত্তরের কাঠমিস্ত্রি আতিক উল্লাহর পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় পরিবারের দারিদ্রতা ঘুচেছে ঠিকই কিন্তু চার সন্তানের পড়াশুনা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
নিহত আতিকের স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যথেষ্ট সাহায্য সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তারপরও যদি আরেকটু সাহায্য করতো তাহলে আমাদের দুর্ভোগের দিন লাঘব হতো।
রংপুরের কাউনিয়ার আওয়ামী লীগ কর্মী রেজিয়াও ওই জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরে যেতে পারেননি। রেজিয়ার এতিম সন্তানদের দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়েছেন রেজিয়ার বোন আনোয়ারা।
নিহত রেজিয়ার বোন আনোয়ারা বলেন, আমরা কোথায় তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ডোম ঘরে লাশ পড়ে থাকতে দেখে লাশ নিয়ে আসি।
দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়ানো নিহত পরিবারের সদস্যরা চায় নৃশংস ওই হামলায় জড়িত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা। তারা মনে করেন, এতে ফিরে পাওয়া যাবে না তাদের হারানো স্বজনকে, কিন্তু ওই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো যাবে।









