শেখ হাসিনা অবসরে গেলে কে হবেন তার উত্তরসূরী? দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে? দল সরকারে থাকলে সরকার প্রধানই বা কে হবেন?
তিনি যতবার তার অবসরের কথা বলেছেন ততবারই সাধারণের মধ্যে বিষয়টি আলোচনা হয়েছে, এবারও হচ্ছে। কিন্তু, তার নিজের দলেই এ নিয়ে কোন আলোচনা নেই।
অবসরের কথা একাধিকবার বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রায় দুই বছর পর শনিবার দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে আবারও তিনি সামনে নিয়ে আসেন তার অবসর প্রসঙ্গ। এবারও তাই সেই পুরনো প্রশ্ন: কে হবেন শেখ হাসিনার উত্তরসূরী?
কিন্তু, এ বিষয়ে এখনই তাকে ছাড়া কিছু ভাবতে রাজি নন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের বক্তব্য, এই একটা ক্ষেত্রে দলীয় সভানেত্রীর সঙ্গে তারা কেউ একমত নন।
১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ওই বছরের ১৭ মে ঢাকায় লাখো মানুষের প্রাণঢালা উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বদেশ ভূমিতে ফিরে এসেছিলেন তিনি।
এরপর থেকে দলের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা। এ সময়ে আওয়ামী লীগকে তিনবার ক্ষমতায় নিয়ে গেছেন। আগের কয়েকবারের পর সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিলেও তিনি পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে ভাবতে বলেন। শনিবার নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে আবারো বলেছেন, পরবর্তীয় নির্বাচনের পর তিনি আর আর দায়িত্বে থাকতে চান না।
ওই নির্বাচন হবে দুই বছর পর। কিন্তু, তাকে দুই বছর পরও বিদায় বলতে চান না দলেন নেতারা।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সভানেত্রীর অবসরের বিষয়ে দলে এখনো কোন ভাবনা নেই। তিনি চাইলেও দলের কেউ তাকে ছেড়ে দিতে চান না।
‘এই একটি ব্যাপারে সভানেত্রীর সঙ্গে মোটেও একমত নন দলের নেতাকর্মীরা। ফলে নেতাকর্মীরা কেউই তার বিকল্প কে হতে পারেন সেটা নিয়েও মোটে ভাবছেন না।’
মাহাবুব উল আলম হানিফ বলেন: অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে, অনেক প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে আমাদের দেশ। অনেকটা সময় পেরিয়ে সেই দেশের মানুষ উন্নয়নের মুখ দেখছে। আর যার হাত ধরে এত উন্নয়ন তাকে কি দেশের মানুষও সহজে অবসরে যেতে দেবেন!
‘তার সঙ্গে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, শেখ হাসিনা নামটির সঙ্গে সারা দেশের মানুষ জড়িত।’

তিনি বলেন, দলের সবাই চান যতদিন তিনি সক্ষম ততদিন তিনি দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবেন। ‘কখনোই তার বিকল্প নিয়ে কারো কোন ভাবনা নেই। কারণ এ ভাবনাটাই অবান্তর।’
নির্বাচনে দল জয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে সেক্ষেত্রেও দলের সকলের ভাবনা একইরকম বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
আর আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, রাজনীতিতে অবসর বলে কিছু নেই।
দল এবং সরকারে শেখ হাসিনার উত্তরসূরী বিষয়ে দলের এখনই কোনো বিকল্প ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের এবারের কাউন্সিলের সময়ও দলের নেতাকর্মীরা বলেছিলেন, কমিটি গঠনে সভাপতি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটা সবাই মেনে নেবেন এবং নিয়েছেনও।
‘এ ব্যাপারেও সে কথাটাই বলা হয়, তিনি যা সিদ্ধান্ত দেবেন তাই হবে। ফলে এই বিষয়ে আগাম বিশ্লেষণের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।’
একইরকম কথা বলেন তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার বিষয়। উনিই সিদ্ধান্ত নেবেন যে কখন কী করতে হবে।
তার বিকল্প নেই: রাজনৈতিক বিশ্লেষক
শেখ হাসিনা অবসরে গেলে তার উত্তরসূরী কে হতে পারেন? সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, তার দল তাকে কখনোই ‘গুড বাই’ বলবে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়্যারম্যান ড. অরুণ কুমার গোস্বামী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: দেশ এখন উন্নয়নের পথে আছে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র কমছে, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার স্বপ্ন দেখছে দেশের মানুষ। এই স্বপ্নগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন। দলে এখনো তার বিকল্প তৈরি হয়নি। ফলে স্বভাবতই দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ চান আরো কয়েক মেয়াদে শেখ হাসিনাই নেতৃত্ব দেবেন ।
‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে রূপকল্প তৈরি হয়েছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তার ধারেকাছেও কেউ নেই, তাই তার কোন বিকল্পও নেই,’ বলে মন্তব্য করেন ড. অরুণ কুমার গোস্বামী।








