বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে রোগব্যাধির ধরণেও আসে পরিবর্তন। আর ঋতু পরিবর্তনের ফলে বাতাসে আর্দ্রতার ওঠা-নামার কারণে এখন জ্বরের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের হাঁচি-কাশির জীবাণু শরীরে প্রবেশ করা, বাসা কিংবা অফিসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ থেকে বাইরের প্রচণ্ড গরমে বের হওয়া, প্রচণ্ড ঠাণ্ডা পানি পান করা, বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল ইত্যাদি কারণেও জ্বর হতে পারে।
তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায় বলেও জানিয়েছেন তারা। তাই জ্বর হলে কী করনীয় সেই সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিন।
জ্বর হলে যা করবেন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিকেল অফিসার রাজীব কুমার সাহা জানান, গরম আর ঠাণ্ডার এই আবহাওয়ায় এখন ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বেশি। প্রচণ্ড জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ইত্যাদি উপসর্গ নিয়ে অধিকাংশ রোগী আসছেন।
তিনি জানান, এই জ্বর তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ইনফেকশন কতটুকু হয়েছে তা না বুঝে হুট করে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন তিনি।
রাজীব কুমার বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ গ্রহণ করা উচিত নয়। এছাড়া দুপুরের প্রচণ্ড রোদে বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
এর পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসে ধুলাবালি এড়াতে মাস্ক ব্যবহারেরর পরামর্শ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।

জ্বর হলে যা খাওয়া উচিৎ
জ্বর হলে অনেক খাবারই হজম হয় না। আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার না খেলেও শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই জ্বর হলে কী খেতে হবে এবং কী এড়াতে হবে সেই প্রসঙ্গে পরামর্শ দিয়েছেন ডায়েট অ্যান্ড ফিট এর পুষ্টিবিদ আদিবা ফারজিন।
তিনি বলেন, এসময় প্রচুর পানি খেতে হবে। একইসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে হবে। যেহেতু জ্বর হলে হজম ক্ষমতা কমে যায়, সেহেতু খাবারকে তরল করে খেতে পারলে ভালো। বিশেষ করে ভাত বেশিক্ষণ সেদ্ধ করে নরম করে খেতে হবে।
তবে বেশি ঝাল এবং মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর জ্বরাক্রান্ত ব্যক্তির যেহেতু মুখে রুচি কমে যায় এবং বমির কারণে বেশি পরিমাণ খাবার খেতে পারেন না, তাই কিছুক্ষণ পরপর উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেতে হবে।
অন্যদিকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বাইরে থেকে ফিরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগলেও এসময় বৃষ্টির পানি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ভাইরাস জ্বর হলেও দুশ্চিন্তার কারণ নেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে উপরোক্ত বিষয়গুলো ঠিকঠাক মতো মেনে চললে সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বর সেরে যায়।








