৭০ টি দেশের ১৫০০ চলচ্চিত্র এসেছিল অংশগ্রহণ করতে। সেখান থেকে বাছাই হয়েছে ৫৮ টি দেশের ২২০টি ছবি। আর এসব বাছাইয়ের কাজ করেছেন কোন বড় মানুষ নয়। সব শিশুদের দল। এর মধ্যে আবার দেশীয় ২১ শিশুর নির্মিত চলচ্চিত্রও রয়েছে। জাতীয় পতাকা, সংগঠন এবং উৎসবের পতাকা তুলে, কবুতর এবং বেলুন উড়িয়ে সেই সমস্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শণের জন্য শিশু চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজনও করছে তারা।
আনন্দময় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে গিয়ে ফ্রেমে মাটি ও মানুষের কথা তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে শনিবার রাজধানীর শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরীর শওকত ওসমান মিলনায়তনে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী শিশু চলচ্চিত্র উৎসব। চিলড্রেনস ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের উদ্যোগে এটি উৎসবের ১১তম আয়োজন।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। রাজধানীর কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনে উদ্বোধনী আলোচনা আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডিরেক্টর বারবার উইকহ্যাম এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মুস্তাফা মনোয়ার। উপস্থিত ছিলেন চিলড্রেন ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট লেখক, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
আলোচনার শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন অতিথিরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, ‘শিশু জীবন বড় আনন্দের, এই জীবন উৎসবের। এই উৎসবের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত শিশুদের উপভোগ করতে দিতে হবে। শিশুরা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে, এ তো তাদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। চলচ্চিত্রে তারা বলুক আনন্দময় জীবনের কথা।’
বিশেষ অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর শিশুভিত্তিক চলচ্চিত্রে অনুদান দিচ্ছে। তবে শিশুদের চলচ্চিত্র বিকাশের পথে এখনও অনেক বাধা রয়ে গেছে। সেই বাঁধা দূর করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ প্রধান বারবারা উইকহাম বলেন, এমন আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ কাউন্সিলের জন্য আনন্দের। আর বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের সম্পর্ক উন্নয়নে এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদাণে এটিও একটি বড় সেতুবন্ধ। তিনি আরও বলেন, এই শিশুরা একদিন বাংলাদেশকে বদলে দেবে। 
অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের গরীবের সংসার। বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে জানি কি কষ্ট হয়। তবে এ সংসার আপন হয়। মায়ায় ভরা থাকে। আমাদের মেধাবী নির্মাতা আছে তবে তাদের সহায়তা করার জায়গাটা কম। এটি বাড়াতে হবে। এসব শিশুদের মধ্যে থেকে তৈরী হবে আগামীর নেতৃত্ব। গড়ে উঠবে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। পৃষ্ঠপোষকদের এদিকে নজর দেওয়া উচিত। 
সভাপতির বক্তব্যে মুস্তাফা মনোয়ার বলেন, ‘আজকের শিশুরা তাদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটিয়েছে। যে শিশুরা এটা করতে পারে, তারা কখনো কোনো অন্যায় করতে পারে না। তারা তাদের জীবনকে সুন্দরের পথে চিরজীবন ধরে রাখবে এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।’
শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম বলেন, শিশুদের আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকরা নজর দেননা যা দুঃখজনক। আর শিশুদের ছবি দেখার অভ্যাস বাড়েনি এখনও, যা কষ্টের। তারপরও শিশুদের জন্য ছবি নির্মাণ করে যাব। 
উৎসব পরিচালক মোহাম্মদ আবীর ফেরদৌস জানিয়েছেন, ঢাকার মূল উৎসব কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান মিলনায়তনটি। উদ্বোধনী দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, বিকাল ৪টা, সন্ধ্যা ৬টায় মোট ৪টি প্রদর্শনী হবে।
এবারের উৎসবে ঢাকায় মোট ৬টি ভেন্যুতে ৫৮টি দেশের দুই শতাধিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। উৎসবের সবগুলো প্রদর্শনী অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য উন্মুক্ত। ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই চলচ্চিত্র উৎসব চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশি শিশুদের নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগ। এই বিভাগের ৬৮টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে নির্বাচিত ২১ টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ৫টি চলচ্চিত্র পাবে পুরস্কার। এই পুরস্কারের জুরি বোর্ডের সদস্যরাও শিশু-কিশোর।
গত উৎসবগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও রয়েছে ‘ইয়ং বাংলাদেশি ট্যালেন্ট’ শীর্ষক বিভাগটি । ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী নির্মাতারা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।এছাড়া ‘সোশ্যাল ফিল্ম সেকশন’ বিভাগের নারীর প্রতি সহিংতা বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বিভাগ।
সাত দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের অংশগ্রহণে রয়েছে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার। সরকারের বিশেষ অনুদান ছাড়াও এ উৎসবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্প ও ব্রিটিশি কাউন্সিল।
উৎসবের প্রথম পর্বে পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে কবুতর ওড়ে, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে উত্তোলিত হয় পতাকা। ওড়ে উৎসবের লোগো সম্বলিত বেলুন। উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শিত হয় মারিয়া নভেরা পরিচালিত মেক্সিকান চলচ্চিত্র ‘টেসোরস’।
ছবি: সাকিব উল ইসলাম








