নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস বাংলার বিধ্বস্ত উড়োজাহাজে ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসি। সাথে ছিলেন প্রকৌশলী স্বামী রকিবুল হাসানও।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়ে হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন হাসি। তার বাড়ি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার হাজেরা ঘাটে। একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন রকিবুল হাসান। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার বাগুটিয়া গ্রামে।
ইমরানা কবির হাসির বাবা ব্যাংক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, স্বামী-স্ত্রী দুজনে ছুটি কাটানোর জন্য নেপালের উদ্দেশে সোমবার ঢাকা ছেড়ে যায়। তারপর দুর্ঘটনার খবর শুনেছি।
‘হাসির স্বামী রকিবুল ইসলাম নিহত হয়েছে। তার লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। অার হাসি নেপালের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে বলে জেনেছি। আমার মেয়ে ও রকিবুল দুজনেই অত্যন্ত মেধাবী।’
তিনি জানান, হাসি ২০০৫ সলে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাস করে। ২০০৭ সালে এইচ এস সি পাসের পর রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্যবিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয়।
রাকিবুল ইসলামও কম্পিউটার সায়েন্সে হাসির তিন বছরের সিনিয়র ছিল। ২০১২ সালে তাদের বিয়ে হয়। হাসি কম্পিউটার সাইন্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর রুয়েটেই প্রভাষক হিসাবে যোগদান করে। বর্তমানে সে রুয়েটে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় তাদের জীবন তছনছ হয়ে গেছে জানিয়ে হাসির সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন হুমায়ুন কবির।
হাসির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা মতি বেগম দুর্ঘটনার খবর শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন। মেয়ে কেমন আছে সবার কাছে তা জানার চেষ্টা করছেন। দুর্ঘটনার খবর শুনে আত্মীয়-স্বজনও বাড়িতে এসে ভিড় করেছে। এমন দুর্ঘটনার কথা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তিনি।








