হাজারো পাখির স্বর্গরাজ্য আমাদের এই দেশ। এদের মধ্যে সবার পরিচিত একটি পাখি বক। জলাশয়ের মরা মাছ ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খেয়ে এরা একদিকে যেমন পরিবেশকে সুস্থ রাখছে তেমনি জমির উর্বরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবেও অবদান রেখে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে বাস করে বকের বিভিন্ন প্রজাতি। এরা সবাই জলচর পাখি। গ্রামাঞ্চল বা শহরের বিভিন্ন জলাশয়ের পাড়ে প্রায়ই এদের দেখা যায়। এদের বেশিরভাগ প্রজাতি সাধারণত গ্রীষ্ম থেকে বর্ষাকালে প্রজনন সম্পন্ন করে। এখন চলছে বর্ষাকাল, তাইতো বিভিন্ন জলাশয়ের পাড়ে শুরু হয়েছে বকের বাসা তৈরির কাজ।
প্রজাতিভেদে এ সময় বকের দেহে নানা ধরনের বৈচিত্র্যতা দেখা যায়। প্রজননকালে বিভিন্ন প্রজাতির বক এক সাথে কলোনীতে বাসা তৈরি করে। নিরাপদ বাসা তৈরির জন্য এরা জলাধারের পাশের উঁচু গাছগুলোকেই বেছে নেয়। এক একটি কলোনীতে শত শত বক একসাথে বাসা তৈরি করে। নিবিড় পরিচর্যায় ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে বকের ছানাগুলো।
এই পাখিরা অসুস্থ মাছ, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ, উভচর, সরীসৃপ প্রভৃতি প্রাণী খেয়ে বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা করে যাচ্ছে। কিন্তু বড় বড় বৃক্ষ ও ঝোপঝাড় কমে যাওয়ার কারণে এদের প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে বকের সংখ্যা কমে দেশের সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়বে।
আমাদের দেশের অনিন্দ্য সুন্দর এই বকের প্রজাতিগুলো রক্ষায় আবাসস্থল সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।






