জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় শোভাযাত্রা, আনন্দ র্যালি ও সমাবেশ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আনন্দ র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে ‘স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে’ এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে আনন্দ সমাবেশের উদ্বোধন করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এতে সংগীত বিভাগের উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।
এ সময় ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ থেকে উপাচার্য ভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে সম্প্রসারিত সারি করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ হতে চারুকলা পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশের ফুটপাতে বিভিন্ন হল, বিভাগ, ইনস্টিটিউটের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ফুলের ডালা এবং “উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, শেখ হাসিনা সরকারের অর্জন” শ্লোগান সম্বলিত ব্যানারসহ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করেন৷
এরপর সমাবেশে উপাচার্য বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের স্বীকৃতি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান৷ বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অনেক। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে কাজ করতে হবে৷

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে থেকে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়।
আনন্দ শোভাযাত্রার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, আমাদের এই উন্নয়নের ধারা রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত হয়েছে। যার জন্য শেখ হাসিনা বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই অর্জনে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বিশ্বের কাতারে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার সিনেট ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮টি বিভাগ, ৩টি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আবাসিক হলসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করায় আনন্দিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। আর এ সাফল্যে আনন্দিত হয়ে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা।
বেলা ১১টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক এবং পার্শ্ববর্তী সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতির সামনে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এমরান কবির চৌধুরীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্কার্থী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
শোভাযাত্রা শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির পাদদেশে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ড. এমরান আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। একসময় বাংলাদেশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো, তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলা হতো। আমরা সে অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে অর্থাৎ স্বল্পোন্নত দেশের স্ট্যাটাস হতে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বপ্নকে বাস্তবে আনতে হবে, তারপরই সফলতা আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত দিয়ে বাংলাদেশ অসম্ভব গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুঁড়ি বলার সাহস কারো থাকবে না।







