মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকলেও প্রকৃত অর্থে উন্নয়ন হয়েছে পাশ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বেশি। সূচকে শ্রীলঙ্কা ও ভারত ওপরে থাকলেও বাংলাদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি মানুষের গড় আয় ও আয়ুও বেড়েছে।
বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, সূচক সব সময় প্রকৃত উন্নয়ন তুলে ধরে না। এবারও বাংলাদেশ ১৪২তম হলেও প্রকৃত অর্থে উন্নতি হয়েছে অনেক।
‘মানব উন্নয়নের জন্য কর্ম’ প্রতিপাদ্যে শ্লোগানে চলতি বছরের বৈশ্বিক মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বক্তারা বলেন, সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি।
তবে পঁচিশতম এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে না বলেই মনে করেন তারা।
ইউএনডিপির পরিচালক এবং প্রধান প্রতিবেদক ডক্টর সেলিম জাহান বলেন, ‘আমি র্যাঙ্কিংয়ের পক্ষে নই। যেমন বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং দেখে উন্নয়নের গ্রাফটা বোঝার উপায় নেই। বাংলাদেশে প্রতিবেশি ভারত-পাকিস্তান থেকে গড়ে পিছিয়ে থাকলেও জীবনমান এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ওদের থেকে আমরা বেশ এগিয়ে আছি।’
এবারও বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, উন্নয়ন বিস্তৃত করতে প্রয়োজন টেকসই ও সন্তোষজনক কর্মক্ষেত্র।
অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অর্থনৈতিক দূর্বলতা এমনকি সেবার মান না থাকা সেই সঙ্গে সরকার ঠিক মতো কাজ না করার পরও বাংলাদেশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বেশ কিছুদিন থেকেই উন্নতি করছে। বিশ্ব বরং স্বীকৃতি দিতে দেরি করেছে। আমি বুঝি না সরকার কেনো এ দেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ বলে। আশা করছি এদেশ দ্রুতই স্বল্প উন্নত দেশের তালিকা থেকেও বের হয়ে যাবে।’
কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি, নারী বিনা পারিশ্রমিকে যে কাজগুলো করে তারও আর্থিক মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।
১৮৮ দেশের মধ্যে মানব উন্নয়নে সবার ওপরে নরওয়ে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সব চেয়ে ভালো ৭৩তম স্থানে আছে শ্রীলঙ্কা।






