রংপুরে স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে এক পল্লী চিকিৎসকের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক শিক্ষার্থীর মা। বখাটে ছেলে ও তার বাবার লাঠি পেটায় গুরুতর আহত হয়ে নির্যাতিতা মা এখন বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
বখাটে ছেলের বিরুদ্ধে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ নিয়ে কালিরডাঙ্গা বাজারে খিয়ার ডাঙ্গা প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক ও পল্লী চিকিৎসক আজহারুল ইসলামের কাছে যান গৃহবধু দুলালী বেগম। তার ছেলে হাসু’র বিরুদ্ধে নালিশ করতেই ক্ষিপ্ত হয়ে দুলালীর উপর চড়াও হন বাবা-ছেলে। লাঠির আঘাতে আহত দুলালীকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে এলাকাবাসী।
দুলালী বেগম বলেন, আমার উপর এমন অত্যাচার করে যে বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হতে পারি না।
চিকিৎসক ডাঃ উম্মে হাবিবা লাবনী বলেন, দুলালী নামের রোগীটা আমাদের এখানে দুইদিন আগে ভর্তি হয়েছে। তার থাইয়ে অত্যাচারের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনায় সত্যতা জানতে চ্যানেল আই’র টিম ওই এলাকায় গেলে আজহারুল ও ছেলে হাসু এলাকা থেকে উধাও হয়ে যায়। তার স্ত্রী ও বড় ছেলে ঘটনা অস্বীকার করে তা ভিন্নদিকে নেয়ার চেষ্টা করে ।
আজহারুলের স্ত্রী ও ছেলে বলেন, এটা পুরোপুরি মিথ্যা ঘটনা। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে গিয়ে যাচাই-বাছাই করেন। আমরা তো একা ছিলাম না, সেখানে শতশত লোক ছিল।
এ নিয়ে মামলা না করতে নির্যাতনের শিকার ওই স্কুল শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। দুলালী’র ছেলে-মেয়েরা বলেন, আমাদের ভয় দেখায়, মেরে ফেলার হুমকিও দেয়।
এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুখ না খুললেও মামলা হওয়ার কথা জানান তিনি ।
প্রভাবশালী ওই শিক্ষক ও তার ২ ছেলে পল্লী চিকিৎসক হওয়ায় গ্রামের সাধারণ মানুষ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না। দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।







