টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সব নদ-নদীর পানি বেড়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। সাথে শুরু হয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। যমুনা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে।
গাইবান্ধার চরাঞ্চল, জামালপুর এবং কুড়িগ্রামে দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। পানি উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজার ও মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ঘর-বাড়ি ডুবে থাকায় বাড়ি ফিরতে পারছেন না বানভাসীরা।
গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘটসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার ১৪ সে. মি. উপর দিয়ে। সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ওইসব এলাকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট, ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। অন্তত: ৩ হাজার একর তোষাপাট পানিতে ডুবে আছে। ফুলছড়ি উপজেলার ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গন।
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩০ সে. মি. উপর দিয়ে বইছে। অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, করতোয়া, হুরা সাগর ও ইছামতি নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার ফসলি জমি, রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বাঁধে আশ্রয় নিচ্ছে মানুষ।
বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। যমুনার পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। বাঙালী নদীর পানিও বাড়ছে। সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত সারিয়াকান্দি উপজেলা। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার ৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে ৫টি। প্রায় ৩ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমির জমির আউশ, রোপা আমন, পাট ও সবজি আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ সবকটি নদ-নদীর পানি আবারও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, নাগেশ্বরী ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দেড় লাখ মানুষ। নিম্নাঞ্চলের পথ-ঘাট ও ঘর বাড়ি তলিয়ে থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে। বন্ধ রয়েছে জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ বন্যা কবলিতদের।
লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। ধরলার পানিও বিপৎসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপরে। চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ডালিয়া ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে।
জামালপুরেও যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। এছাড়াও ব্রহ্মপুত্র, ঝিনাইসহ শাখা নদীগুলোর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বেশ কটি ইউনিয়নের ৫০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ইসলামপুর উপজেলার আমতলী-বলিয়াদহ-শিংভাঙ্গা সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কাজ ও খাবারের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছে পানিবন্দি মানুষ। যেটুকু ত্রাণ মিলছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
বৃষ্টি না থাকায় কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে, বাড়ি ঘর থেকে পানি পুরোপুুরি না নামায় এখনো সড়ক ও আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক মানুষ। রোগ বালাই এর পাশপাশি খাবার সংকটও রয়েছে।
কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করায় মৌলভীবাজারেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে ত্রাণ সংকটে হাওর এলাকার বন্যা কবলিত মানুষ এখনো দুর্ভোগে।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও ভিডিওচিত্রে মৌসুমী সুলতানার রিপোর্টে দেখুন বিস্তারিত:








