আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তবে মধ্যাঞ্চলে বিদ্যমান অবস্থার কিছুটা অবনতি হলেও মধ্যাঞ্চলে নতুন করে আর কোনো অঞ্চল প্লাবিত হবার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
জুলাই মাসের সতেরো তারিখ থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেয়। ২৮ জুলাই জামালপুর ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে। মূলত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও তিস্তা নদীর পানি দীর্ঘদিন বিপদসীমার উপরে থাকায় ঐ দুই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয় সবচেয়ে বেশি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাজ্জাদ হোসেন জানান, শুক্রবার বিকেল থেকেই ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করেছে যেটা আজ রবিবারও অব্যাহত আছে। আমাদের পূর্বাভাসমতে সেটা আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। তাই আমরা বলতে পারি, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। আগামী তিন থেকে চারদিনের মধ্যে পানি বিপদসীমার নিচে নেমে যাবে।
তবে আশার কথা ইতিমধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় পানি কমতে শুরু করেছে। এতে করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, নদনদী সংলগ্ন হাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া এবং ধরলা নদী সংলগ্ন কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হচ্ছে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলেই জানালেন প্রকৌশলী মো: সাজ্জাদ হোসেন।
তিনি বলেন, মূলত উজানে বৃষ্টিপাত ও উজানে যেহেতু পানি কমা শুরু করেছে সুতরাং নিচের এলাকাতেও পানি কমতে থাকবে আরো কিছুদিন। পানি যেহেতু ব্রহ্মপুত্র হয়ে, পদ্মানদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে যায় তাই বর্তমানে পদ্মা অংশে মানে গোয়ালন্দ থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সেটা খুবই কম। সেই হিসেবে মনে করছি নিম্নমধ্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতিও হয়তো আরো কিছুদিন অব্যাহত থাকবে। তবে নতুন করে পানি বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
শুক্র ও শনিবার পর পর দুই দিন যমুনার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার উপরে থাকা তিন দশকের মধ্যে রের্কড পানি প্রবাহ কিছুটা কমে এখন বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছে। ঢাকার চারপাশের কয়েটি নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও ঐ সব নদীতে পানি বিপদসীমার ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে।







