ঈদকে কেন্দ্র করে আফগান সরকারের সঙ্গে তিনদিনের অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে তালেবানরা। যদিও এই অস্ত্রবিরতি কোনো বিদেশি সেনাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না।
ছুটির সময়ে দলটি তাদের সব ধরনের আক্রমণাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা দিচ্ছে যোদ্ধাদের। তবে কোনোভাবে আক্রমণের শিকার হলে তারা নিজেদের রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছে।
২০০১ সালের পরে এই প্রথমবারের মতো অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে তালেবানরা। এর আগে সপ্তাহের শুরুর দিকে একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করে আফগানিস্তানের সরকার।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলেন, তালেবানদের এই পদক্ষেপ জঙ্গিদের বোধোদয়ের একটি সুযোগ যে, কোনো সহিংস প্রচারণা দিয়ে তারা হৃদয় ও মন জয় করতে পারবে না বরং সেটা আফগান জনগণের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করেই সম্ভব।
যদিও আফগান সরকার অন্যান্য জঙ্গি সংগঠন যেমন আইএসের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করবে না।
আফগান সরকারের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা প্রথম কোনো শর্তবিহীন অস্ত্রবিরতির ঘোষণা ছিলো। ধর্ম প্রচারকদের একটি সভার পরে এই অস্ত্রবিরতির ঘোষণা আসে। সেই সভায় জঙ্গিদের সহিংস কার্যক্রমকে নিন্দা জানিয়ে ফতোয়া জারি করে ধর্মপ্রচারকরা।
কাবুলের পিস টেন্টে আইএসের আত্মঘাতী হামলায় এসব প্রচারকরাই লক্ষ্য ছিলো বলেও দাবি করেন তারা। সেই হামলায় ১৪ জন নিহত হয়।
তবে রমজানের ঈদ যেহেতু চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তাই কবে থেকে এই অস্ত্রবিরতি শুরু হবে তা এখনো জানা যায়নি। আফগানদের হিসেবে ১৫ই জুন শেষ হবে রমজান মাস।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সেনা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে থাকা জোটগুলো এই অস্ত্রবিরতির প্রতি সম্মান জানাবে।
আফগানিস্তানে বিদেশি সেনাসংখ্যা ১৫,০০০ এ নামিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বেশি বেশি বিমান হামলার কথা জানায় এবং সেনা তুলে নেওয়ার শেষ তারিখ তুলে নেয়। আফগানিস্তান থেকে বিদেশি প্রতিরোধ সেনা ২০১৪ সালে তুলে নেওয়া হয়।







