প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যৌথ আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ই-সার্ভিস রোডম্যাপ ২০২১ বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো: জিয়াউল ইসলাম এবং এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।
সভায় জানানো হয়, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহ তাদের সেবাসমূহকে অধিকতর সেবামুখী, জনবান্ধব, সহজ ও কার্যকরী করার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রচলিত প্রথাগত সেবাপদ্ধতি থেকে ই-সার্ভিসে রূপান্তর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহকে দ্রুত ও সঠিকভাবে ডিজাইন, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং এটুআই প্রোগ্রাম বিভিন্ন প্রকারের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা করেছে।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রতিটি দপ্তরকে বছরে একটি করে সেবা ই-সেবায় রূপান্তর এবং আইসিটি ডিভিশন ও বিসিসিকে ডাটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, দপ্তরসমূহের আইসিটি সেলের কর্মকর্তাদেরকে এটুআই এর সহযোগিতায় ই-সার্ভিস বাস্তবায়নের বিষয়ে আরও বেশি দক্ষ করে তোলা যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, ২২৩টি ই-সার্ভিস তৈরি করার মাধ্যমে নাগরিকদের আরও দ্রুত ও সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তিন মাস অন্তর অন্তর কাজের অগ্রগতির পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও এটুআই যৌথভাবে মোট ৭টি ব্যাচে ‘ই-সার্ভিস রোডম্যাপ-২০২১’ শীর্ষক পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা আয়োজন ও পরিচালনা করেছে। এই পরিকল্পনা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরসমূহ তাদের সিটিজেন চার্টার ও সকল কার্যক্রম বিশ্লেষণপূর্বক ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য অগ্রাধিকারভিত্তিক সকল ই-সার্ভিস এর পরিকল্পনা তৈরি করছে যা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দপ্তর প্রধান কর্তৃক যাচাই বাছাই পূর্বক অনুমোদন করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭টি ব্যাচে ৪৮টি মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ১৫০ জন কর্মকর্তা ‘ই-সার্ভিস রোডম্যাপ-২০২১’ শীর্ষক পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং তাদের দপ্তর সমূহের ৮০৯টি সেবাকে বিশ্লেষণপূর্বক ২২৩ টি ই-সার্ভিস সফলতার সাথে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী দপ্তর ও সেবাগ্রহীতাদের সমন্বয়ে প্রণয়নকৃত ই-সার্ভিস রোডম্যাপ দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার তালিকার ১ ও ২ নং ই-সার্ভিসগুলি নিয়ে দপ্তরগুলির আগ্রহের ভিত্তিতে ৩৪টি জনবান্ধব ই-সার্ভিসের নকশা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যমান সেবা গ্রহণে তাদের কি কি ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় তা বিবেচনা করে ই-সার্ভিস ডিজাইনে তাদের স্বপ্ন, প্রত্যাশা হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়েছে এর মাধ্যমে।








