সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এ ব্যাপারে ‘প্রখ্যাত’ তদন্তকারীদের একটি দল গঠনের একটি নীতি পাস করেছে। নতুন এই নীতি গ্রহণের জন্য কিছু কিছু করে পশ্চিমা শক্তি ও সৌদি আরবসহ সব আরব রাষ্ট্র- দু’পক্ষকেই ছাড় দিতে হয়েছে।
শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ চুক্তিটি হয়। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ের স্বনামধন্য যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত দল ইয়েমেনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনসহ অন্যান্য বিভিন্ন আইনের সংশ্লিষ্ট অংশ লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে।
একইসঙ্গে দলটি সেসব আইনের লঙ্ঘন বা অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত কারণ ও পরিস্থিতিগুলোকে যেমন চিহ্নিত করবে, তেমনি যেখানে সম্ভব সেখানে দায়ী ব্যক্তিদেরকে সনাক্ত করবে।
ইয়েমেন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার পক্ষ থেকে আগে করা আনুষ্ঠানিক ‘তদন্ত কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে আরও কঠোর অনুসন্ধান চালানোর প্রস্তাব তুলে নেয়ার পর জাতিসংঘে এই নীতিটি গৃহীত হলো। অন্যদিকে আরব জোটের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ইয়েমেন সরকারের গঠিত অভ্যন্তরীণ তদন্ত দলের সঙ্গে মিলে কাজ করার জন্য ইয়েমেনে তিনজন বিশেষজ্ঞ পাঠানোর একটি প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এতদিন ধরে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে স্থানীয় হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহায়তা করে আসছে। জাতিসংঘের হিসেব মতে, ইয়েমেনের এই গৃহযুদ্ধে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত স্থল ও বিমান হামলায় ৮ হাজার ৫৩০ জনের বেশি নিহত হয়েছে, যার ৬০ শতাংশই নিরীহ বেসামরিক জনগোষ্ঠী। আহত হয়েছে প্রায় ৪৮ হাজার ৮শ’ মানুষ।
যুদ্ধের কারণে কোন না কোন ধরণের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন প্রায় ২১ কোটি মানুষের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয় এই ইয়েমেন যুদ্ধের কারণেই।
এছাড়া গত এপ্রিলে পুরো ইয়েমেন জুড়ে কলেরার প্রাদুর্ভাব ঘটে, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে যা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এই কলেরা মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৭ লাখ মানুষ।









