সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা রিটের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী বুধবার আদেশ দেবেন আদালত।
সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি এসএম এমদাদুল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন।
লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে রোববার বিকালে হাইকোর্টের শাখায় আবেদনটি করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রিট আবেদনে নির্বাচন কমিশন, আইন সচিব, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিবকে (আইন) বিবাদী করা হয়েছে।
হজ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ খোয়ানো লতিফ সিদ্দিকী রোববার হাইকোর্টে আবেদন করলে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চে শুনানি হয়।
আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য বুধবার দিন রেখেছেন বল ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোরশেদুল আলম জানান।
তিনি বলেন, আবেদনকারী পক্ষের শুনানি হয়েছে। আদালত বুধবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। তার আগে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যও শুনবেন।
গত বছর সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে হজ নিয়ে মন্তব্য করে লতিফ সিদ্দিকী মন্ত্রিত্বের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হন।
দেশে ফেরার পর ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মামলায় নয় মাস কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের এই সাংসদকে। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান তিনি।
লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কারের আট মাস পর বিষয়টি জানিয়ে আওয়ামী লীগের পাঠানো চিঠি গত ৫ জুলাই স্পিকার শিরীন শারমিনের হাতে পৌঁছায়।
এরপর সংবিধান, মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনে বিতর্ক নিষ্পত্তির কার্যক্রম নেওয়া হয়।
এ অবস্থায় লতিফের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা মীমাংসার জন্য আইন অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তারপর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে লতিফকে ২৩ অগাস্ট শুনানিতে ডাকা হয়।
লতিফ যে রিট আবেদন করেছেন, তাতে কমিশনের দেয়া চিঠির কার্যকারিতা স্থগিতের আরজি জানানো হয়েছে। ওই চিঠি কেনো বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে রুলও চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন, আইন সচিব, নির্বাচন কমিশনের উপসচিব (আইন) ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে এই রিট আবেদনে বিবাদী করেছেন লতিফ। তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
জ্যোর্তিময় বলেন, সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে শুধু ৬৬(২) ও ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিতর্ক নিষ্পত্তির জন্য স্পিকার ইসিতে পাঠাবেন ও ইসি তা শুনানির করবে।কিন্তু আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে ৬৬(২) ও ৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। তাই নির্বাচন কমিশনের শুনানির এখতিয়ার নেই।
সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদে সাংসদ নির্বাচিত হওয়া এবং পদে থাকার অযোগ্যতার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। কোনো উপযুক্ত আদালত কাউকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করলে, তিন দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি লাভ না করলে, বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন বা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে, নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে এবং মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকলে, ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আইনের অধীন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হয়ে থাকলে সংসদ সদস্য হিসাবে অযোগ্যতার কথা বলা হয়ে এই অনুচ্ছেদে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূণ্য হওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে।
আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া জানান, মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (ডিটারমিনেশন অব ডিসপিউট) অ্যাক্ট-১৯৮০ এ বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া বলা আছে। সেখানেও ওই দুটি অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিরোধের কথা বলা আছে।
অ্যাক্ট অনুসারে অভিযোগ আসার পর, অভিযোগ বিষয়ে বিরোধ বা বিতর্ক আছে কি না এটা নির্বাচন কমিশনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে তা হয়নি। তাই বলেছি ইসির ওই শুনানির এখতিয়ার নেই।







