মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বিস্ময়, ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেছে বিশ্বের নানা প্রান্তের মুসলিমরা। তাদের অনেকের আশঙ্কা সামনে আরও যুদ্ধ আসছে, মুসলিম দেশগুলোতে বাড়তে যাচ্ছে মার্কিন আগ্রাসন।
বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মনে ট্রাম্প ভীতির এই চিত্রই তুলে ধরেছে সৌদি আরবের গণমাধ্যম আরব নিউজ, কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে মুসলিমদের নানা উদ্বেগ-শঙ্কার কথা।
‘আমার ভীষণ ভয় করছে, আরও যুদ্ধ হবে?, আমেরিকা কি মুসলিম দেশগুলোতে আরও আগ্রাসন চালাবে’ এমন উদ্বেগজনক প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে ইন্দোনেশিয় সমাজকর্মী আলিজাহ দিয়েতের মনে।
গতবছর ডিসেম্বরে মুুসলিমদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত মন্তব্যটি করেছিলেন ট্রাম্প।

ক্যালিফোর্নিয়াতে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহতের ঘটনার জের ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন তিনি। তাই এমন একজন অবিবেচক নেতাকে এমন শক্তিশালী দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় আরব নিউজের কাছে মার্কিন জনগণের প্রতিই আফসোস প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের তাশফিন চৌধুরী। তিনি বলেন,‘ আমেরিকানরা আবারও পুরো বিশ্বকে টালমাটাল করে দিলো’।
হিলারি কিংবা ট্রাম্প দু’জনের যে কেউই প্রেসিডেন্ট হলে মার্কিন স্বার্থে কোনো পরিবর্তন আসতো না। তবুও হিলারিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চেয়েছিলো অধিকাংশ মুসলিম। পাকিস্তানের এক সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন,‘ হিলারি একজন ভালো মানুষ, সে মুসলিমদের জন্যও ভালো ছিলেন’।
ট্রাম্পের এই জয় উগ্র ইসলামিক জঙ্গিবাদকে আরও উস্কে দেবে বলে মনে করেন ইন্দোনেশিয়ার মধ্যমপন্থী ইসলামিক সংস্থার বিশেষজ্ঞ জুহাইরি মিসরাউয়ী। তিনি বলেন,‘ ট্রাম্পের জয়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গিরা’।
ইসলাম ভীতির জয়:
ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম ভীতিই ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট করলো বলে শিরোনাম করেছে কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে,‘ ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্টের বদলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো একজন ইসলাম বিদ্বেষীকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছে’।
আসল কথা হলো নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রচণ্ডভাবে ইসলাম বিদ্বেষ এবং এই ধর্মের প্রতি ভীতি, ক্ষোভকে পুঁজি করেছেন ঝানু ব্যবসায়ী ট্রাম্প। এই একটি অস্ত্র দিয়েই অবশেষে বাজিমাত।
নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে এনবিসি’র জরিপে দেখা যায়, ২০১৫ সালে ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধের ডাকে সাড়া দিয়েছিলো ২৫ শতাংশ মার্কিনী। বহু সংস্কৃতির মিশেলে আজকের আমেরিকা বলা হলেও বাস্তবে তা নয়। নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছিলো ততোই এই চরম বাস্তবতার প্রমাণ মিলছিলো। তাই ২০১৬ সালের জরিপে ট্রাম্পের মুসলিম নিষিদ্ধের কথায় ৫১ শতাংশ মার্কিনী সমর্থন দিয়েছিলো।

শুধু মুসলিম নয়, প্রতিবেশী মেক্সিকো, নারী নিয়ে বিতর্কিত ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট সব দ্বিধাদ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের মুকুট ছিনিয়ে নিলেন। নির্বাচন যত এগিয়ে এসেছে, নিজের বিবেচনাহীন আচরণ ও মন্তব্যের কারণে ব্যাপকভাবে বিতর্কিত ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের দলের সিনিয়র নেতাদের সমর্থনও হারিয়েছিলেন। তাই ট্রাম্পের এই জয়কে আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘আপসেট’ বা বিপর্যয় বলে অভিহিত করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে জয়ের জন্য একজন প্রার্থীর কমপক্ষে ২৭০টি আসন নিশ্চিত করার কথা। এর মধ্যে ২৮৯টি আসন জয় করে নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে হিলারি পেয়েছেন ২১৮টি আসন।








