মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ পরমাণু চুক্তি ‘মিথ্যের ওপর দাঁড়ানো’। অর্থাৎ চুক্তির সময় পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে দেশটি মিথ্যে কথা বলেছে।
ইসরায়েল ইরানের একটি গোপন পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলেন পম্পেও।
সোমবার পম্পেও তার সঙ্গে প্লেনে থাকা সাংবাদিকদের বলেন, ইসরায়েলের কাছে থাকা নথিপত্র অনুসারে, ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তিটি হয়েছিল সদিচ্ছা নয়, প্রতারণার ওপর ভিত্তি করে।
নতুন প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য নির্ভরযোগ্য এবং এর অনেক বিষয়ই মার্কিন বিশেষজ্ঞদের কাছে নতুন বলে জোর দিয়ে বলেন তিনি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েলের সামরিক সদরদপ্তরে রোববার দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাকে এ বিষয়টি সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। ওয়াশিংটনের এই নতুন শীর্ষ কূটনীতিক দেশে ফেরার পর সোমবার ইসরায়েলের নথিটি প্রকাশ করা হয়।
‘গতকাল (রোববার) আলোচনার কিছুক্ষণ আগে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি এবং এই ব্যাপারে অবশ্যই আমরা কথা বলেছি। এই ব্যাপারে আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি যে, এসব নথি যথার্থ এবং বিশ্বাসযোগ্য,’ বলেন তিনি।
সোমবার নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের সামনে বেশকিছু সিডি এবং নথিপত্র উন্মোচন করে দাবি করেন, সেগুলো ইরানের গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির আর্কাইভ।
কর্মসূচিটিকে ‘প্রজেক্ট আমাদ’ নামে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৩ সালে এই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার পরেও এর কাজ গোপনে চলছে এবং এর মধ্য দিয়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জ্ঞানের বিকাশ ঘটাচ্ছে।
অর্থাৎ ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তি করার সময় ইরান মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে দাবি করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
তবে ইরান চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করেছে, এমন কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি নেতানিয়াহু।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই ইরানের এই পরমাণু চুক্তি বাতিলের ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছিলেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা রয়েছে তার।
কিন্তু চুক্তির অংশ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, ইরান এ পর্যন্ত চুক্তি মেনেই কাজ করে আসছে। তাই চুক্তিটি এভাবেই চালিয়ে যাওয়া উচিত।








