আপনার শফিক রেহমানের গ্রেফতার বিষয়ক বক্তব্যটি পড়লাম, যা দৈনিক প্রথম আলোতেও প্রকাশিত হয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে কোনদিন আপনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে কোন আলোচনা-সমালোচনা করিনি বা করার প্রয়োজনও বোধ করিনি, যদিও বিভিন্ন সময়ে মঞ্চের মত একটা নামীদামী আন্দোলনের ভাষা ও বোধগত দরিদ্রতা আমাকে আহত করেছে!
বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের সস্তা-মুক্তবাজার রাজনীতির শব্দদূষনীয় বোলচাল আমার বিরক্তির কারণ হলেও সর্বক্ষেত্রে তা পাত্তা দেয়ার প্রয়োজনবোধ করিনি। কিন্তু শফিক রেহমানের গ্রেফতার প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্যটি এতো বালখিল্য এবং বাড়ন্ত শিশুসুলভ মনে হয়েছে যে এব্যাপারে দু’টো কথা না বলেই পারছি না। আশাকরি আপনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
প্রথমত. ৮১ বছরের একজন সিনিয়র নাগরিকের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং নিন্দা আপনি জানাতেই পারেন, যদিও আপনি তার রাজনৈতিক আদর্শের সাথে একমত নন। এটা নিঃসন্দেহে আপনার রাজনৈতিক এবং নাগরিক অধিকারের এখতিয়ারভুক্ত। আপনার বক্তব্যের এপর্যন্ত কোন ঝামেলা নেই বা ছিল না। কিন্তু তার পরের লাইনেই যখন লিখলেন যে, মিঃ শফিক রেহমান ভিন্নমতের বলেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে যা নোংরা রাজনীতির একটি অপকৌশল, তখন নিজেকে ভ্রু কুচকানো থেকে বিরত রাখতে পারিনি!
আপনার কাছে আমার সরল জিজ্ঞাসা, আপনি কেন ভাবছেন যে শফিক সাহেবকে রাজনীতির ভিন্ন মতাদর্শের কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে? কোথাও কি তার সুস্পষ্ট কোন আলামত দেখেছেন? আপনার কি ধারণা আছে যে, শুধু রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে সরকার যদি বিভিন্ন জনকে গ্রেফতার করা শুরু করতেন, তাহলে বাংলাদেশে কতগুলো কারাগারের প্রয়োজন হত? আর বর্তমানে তার বাস্তব চিত্রটা কি? তুলনামূলক চিত্রটি নিশ্চয়ই আপনার জানা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিভিন্ন সময়ে আপনিও সরকারের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ম তথা অশালীন ভাষায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তার জন্য আপনি কতবার জেলে গিয়েছেন বা আপনি এখনো কিভাবে মুক্ত বাতাসে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক ভিন্নমত প্রকাশ করছেন, তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন আপনার এই বক্তব্য দেয়ার আগে?
তাহলে আপনার বক্তব্যটি কেন স্ববিরোধী নয়, দয়া করে যদি ব্যাখ্যা করতেন, তাহলে জাতি নিঃসন্দেহে উপকৃত হত।
দ্বিতীয়ত. আপনি মিঃ শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি ‘বায়বীয়’ বলে উল্লেখ করেছেন আপনার বক্তব্যে। অন্যদিকে আইনপ্রয়োগকারী তদন্ত সংস্থা সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন। আপনি, আপনার বক্তব্য এবং তদন্ত সংস্থার বক্তব্যকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, বুঝতে পারছেন? আপনি কি আপনার সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও প্রমাণ করতে পারবেন যে, শফিক রেহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি ‘বায়বীয়’? যদি না পারেন, তাহলে আপনার পূর্বের মত এবারের হটকারী অতিকথনের দায়ভার আপনি কিভাবে নেবেন? এক্ষেত্রে আপনার সদুত্তরের প্রত্যাশা প্রজন্ম করতেই পারে। 
তৃতীয়ত. আপনি সরকারের ‘শুভবুদ্ধির উদয়’ কামনা করেছেন আপনার বক্তব্যে। ক্ষেত্রবিশেষে যা আমিও বিভিন্ন সময়ে করে থাকি। কিন্তু যে সরকারের প্রতিপক্ষ স্বীকৃত একাত্তরের ঘৃন্য এক অপশক্তি, যারা নব্বই দিন একাধারে বাংলার মানুষ পুড়িয়েছে আহ্লাদে এবং যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেই আজকের ‘ইমরান সরকার’-এর জন্ম হয়েছিল, সেই গোষ্ঠীর পক্ষেই আপনার উদার কন্ঠের আদরোচিত সহানুভূতি কেন হটকারী এবং স্ববিরোধী নয়, বলবেন কি? এক্ষেত্রে আপনার সদুত্তরের দাবি শুধু আমিই নই, সারাজাতিই করছে।
ইমরান এইচ সরকার, আপনি আমার ফেইসবুকের বন্ধু এবং আমি জানি, আপনি আমার লেখার নিয়মিত পাঠক। আশাকরি আপনি দয়া করে আমার এই প্রশ্ন তিনটির যথাযথ উত্তর দিয়ে আপনার বক্তব্যের গভীরতাকে বুঝতে জাতিকে সহযোগীতা করবেন।
পুনশ্চ: আমার ভাবনায়ও ভুল থাকতে পারে এবং আমার আলোচনা সঠিক না-ও হতে পারে। আপনার সহৃদ সদুত্তরের অপেক্ষায় রইলাম নিজেকে শুধরে নেয়ার জন্য। প্রাণঢালা আগাম ধন্যবাদ।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








