২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য চলচ্চিত্র, নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীদের নাম ঘোষণা করেছে সরকার। ২৬টি শাখার মধ্যে ৯টিতে পুরস্কার জিতেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ৪টি চলচ্চিত্র। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সাল থেকে জাতীয় চলচ্চিত্রের ৭টি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ ১শ’ ৭০টি পুরস্কার জিতে অনন্য রেকর্ড গড়েছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। আমরা মনে করি, যেকোনো প্রযোজনা সংস্থার জন্য এরকম অর্জন অসাধারণ গৌরবের। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে যে নিরলস পরিশ্রম ইমপ্রেস করে আসছে এই পুরস্কার তারই স্বীকৃতি। এ কারণে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম এবং এর সঙ্গে জড়িত সকলকে আমরা অভিনন্দন জানাই। চলচ্চিত্রে যখন অসুস্থ ধারা প্রতিষ্ঠিত ছিল, তখন এর বিপরীতে সুস্থ ধারার প্রবর্তন করা খুব সহজ ছিল না। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কঠিন এক পথচলায় বাংলা চলচ্চিত্রে গুণগত পরিবর্তন এনেছে এই প্রযোজনা সংস্থা। এর প্রতিদানও দিয়েছে সাধারণ দর্শক। তারা সবসময়ই সুস্থ ধারার পক্ষে ছিলেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রায় সকল ছবি দর্শকপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রশংসিত হয়েছে। আমরা মনে করি, একটি চলচ্চিত্র নির্মাণে বিনোদন যেমন থাকবে, তেমনি সমাজ সংস্কারের সুযোগও থাকবে। সমাজের খারাপ দিকগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরে সেগুলোকে যে দমন করা যায়, আর ভালো হলে যে সমাজ সুন্দর এবং উচ্চস্থান পেতে পারে এই বার্তাগুলো সিনেমার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু মুনাফা নয়, সমাজ সংস্কারের ব্রত নিয়ে এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মকে অনুসরণ করে অন্যান্য প্রযোজনা সংস্থা এ বিষয়ে এগিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করি। তবে এখনও সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় টিকে ব্যবসা সফল হওয়া খুব সহজ নয়। এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও বেশি উদ্যোগী হতে হবে। তবে সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রকে মূলধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বরাবরের মতো দর্শকদের সহযোগিতা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। তাই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে মানসম্মত সিনেমার সমর্থনে এগিয়ে আসতে সবার প্রতি আমরা আহ্বান জানাই।







