৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতলেও মুখের হাসিটা মলিন ছিল ইংল্যান্ডের ফুটবলারদের। দুই সতীর্থ ক্যালাম হাডসন-অডোই ও ড্যানি রোজকে নিয়ে করা মন্টেনেগ্রো সমর্থকদের বর্ণবিদ্বেষী আচরণের সমালোচনা নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন বেশিরভাগ ইংলিশ ফুটবলার। বিচার চেয়ে উয়েফার হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন গ্যারেথ সাউথগেট। ইংল্যান্ড কোচের অভিযোগে সাড়া দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।
সোমবার মন্টেনেগ্রোর মাঠ পোদগোরিকাতে একাধিকবার উত্তেজিত হতে দেখা গেছে ইংলিশ ফুটবলারদের। এমনকি ৮১ মিনিটে গোল করার পর রাহিম স্টার্লিংয়ের কানে হাত দিয়ে কিছু শোনার ভঙ্গিতে উদযাপনই ইঙ্গিত দিচ্ছিল, কিছু একটার প্রতিবাদ করছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে সবকিছুর খোলাসা করেছেন সাউথগেট। তার খেলোয়াড়দের দিকে বানরের অনুকরণে মন্টেনেগ্রোর সমর্থকদের উদযাপন করার অভিযোগ এসেছে ইংলিশ কোচের কণ্ঠে, ‘ম্যাচের শেষদিকে ড্যানি রোজ যখন হলুদ কার্ড দেখল তখন আমি নিজে শুনেছি, ওরা ড্যানিকে নিয়ে বাজে বাজে সব মন্তব্য করছে। এনিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।’
কেবল সাউথগেটই নন, ম্যাচ শেষে টুইটারে নিজের উদযাপনের ছবি প্রকাশ করে রাহিম স্টার্লিং লিখেছেন, ‘বিরোধীদের থামিয়ে দেয়ার সবচেয়ে বড় উপায় (আমি কিন্তু বর্ণবৈষম্যকারীদের বোঝাচ্ছি)।’
ইংল্যান্ড কোচের অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে উয়েফা। ম্যাচ প্রচারের দায়িত্বে থাকা ফেয়ার নেটওয়ার্কের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ শুরু করেছে সংস্থাটি। ফেয়ার নেটওয়ার্ক মঙ্গলবার বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুরুর আগে থেকেই বর্ণবিদ্বেষী আচরণের উচ্চ ঝুঁকিতে ছিল ইংল্যান্ড-মন্টেনেগ্রো ম্যাচ!
অভিযোগ কেবল বর্ণবিদ্বেষী আচরণেই থেমে থাকেনি; মন্টেনেগ্রো সমর্থকদের বিরুদ্ধে জিনিসপত্র ছুঁড়ে মারা, দর্শকদের শান্ত করতে না পারা, আতশবাজি পোড়ানো, সিড়ি আটকে অন্য দর্শকদের খেলা দেখতে না দেয়াসহ একাধিক অভিযোগের বিপক্ষে তদন্ত শুরু করেছে উয়েফা।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় রকমের জরিমানা গুনতে তো হবেই, আগামী জুনে কসভোর বিপক্ষে ঘরের মাঠে আংশিক অথবা পুরোপুরি দর্শকবিহীনভাবে খেলতে হবে মন্টেনেগ্রোকে। ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-২১ ম্যাচে এই ড্যানি রোজকে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করায় ৬৫ হাজার ইউরো জরিমানা গুনতে হয়েছিল সার্বিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে।









