মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাসদ নেতা কাজী আরেফের হত্যাকারীদের একজন হাবিবুর রহমানের ছোট ভাই হাসিবুর রহমান দাবী করেন, তার বড় ভাই একজন দিনমজুর। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু অর্থ না থাকায় আপিল করতে পারেননি তিনি।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এক আসামির ছোট ভাইয়ের এমন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, ‘এমন বক্তব্য আসলে ভিত্তিহীন। কেননা যখন কোনো আসামির নিজের আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ থাকে না। তখন তার হয়ে রাষ্ট্রই আইনজীবী নিয়োগ দেন। অর্থ নেই বলে তিনি আপিল করতে পারেননি এমনটা হয় না।’
একই কথা বলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট মো. রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘যখন একজন আসামি নিজের অর্থনৈতিক সামর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে না তখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা চাইলে সেটা নিতে পারতেন। যদি তারা সেটা না দিয়ে থাকে তাহলে সেটা তাদের ব্যর্থতা। আদালত আজ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে। এই রায় নিশ্চয়ই সবগুলো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সেখানে নিশ্চয়ই তাদের আপিলের সুযোগও ছিলো। আসামির অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ হয়নি এমনটা হবে না।’
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাসদের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত হন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাসদের সাবেক সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ ৫ জাসদ নেতা।
এই হত্যা মামলায় যশোর কারাগারে বন্দী তিন আসামি আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও হাবিবুর রহমান হাবির ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতেই।
ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অন্য ৫ আসামি মান্নান মোল্লা, জালাল ওরফে বাশার, রওশন আলী, বাকের আলী ও জাহান আলী এখনো পলাতক রয়েছেন।







