একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তার শরিকদের জন্য কতগুলো আসন ছেড়ে দেবে? এমন প্রশ্ন রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছুদিন থেকেই। এর মাঝেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নির্বাচনী শরিক ১৪ দলের বৈঠক হল। বৈঠক শেষে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন: বৈঠকে শরিকদের পক্ষ থেকে ৮০ কিংবা ১০০ আসন ছেড়ে দিতে হবে এমন দাবি করা হয়নি। আসন বন্টনের বিষয়টি পুরোপুরিভাবে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী জোটের দলগুলো নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৈঠক থেকে বের হয়ে একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। তিনি শরিকদের সঙ্গে আসন বন্টন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন: অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের যেকারও ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আমরা কখনই সফল হতে দেব না। যদি কেউ করে আমরা সম্মিলিতভাবে ব্যবস্থা নেব।
আসন বন্টনের বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। আমরা নির্বাচনে নামব জেতার জন্য। প্রতিপক্ষকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। শরিকদের যদি উইনেবল ক্যান্ডিডেট থাকে কোন আসনে, তাহলে সেখানে আমরা ছাড় দেব। যোগ্যতার বিচারে মনোনয়ন দেয়া হবে। তাদের পক্ষ (১৪ দল) থেকে নির্দিষ্ট করে এতটি আসন দিতেই হবে, এমন কোন দাবি তোলা হয়নি। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সকলেই নেত্রীর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। তার সিদ্ধান্ত সকলে মেনে নেবেন।
শুরুতে ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠকে সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন: গ্রাম পর্যায়ে উন্নয়ন পৌঁছে দেয়া হয়েছে, দেশের মানুষ ভোট দিলে দেশকে আরও উন্নত করতে পারব, আশা করি, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে মানুষ আমাদের ভোট দেবে।
‘‘আওয়ামী লীগের অধীনে সব নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে। আগামীতে জনগণ যাকে ভোট দিবে তারাই ক্ষমতায় আসবে। ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠকের সূচনায় তিনি একথা বলেন’’।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) নিয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হয়।
শনিবার জেল হত্যা দিবসে কোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। এর ধারাবাহিকতায়, আজ রোববার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটের অংশীদার ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।








