বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, খ্যাতিমান রাজনীতিবীদ বাসদের আহ্বায়ক আ ফ ম মাহবুবুল হক আশঙ্কাজনক অবস্থায় অটোয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় সিঁড়ি থেকে পরে গিয়ে মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি অটোয়ার সিভিক হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন।
তার মস্তিষ্কের অপারেশন প্রয়োজন হতে পারে বলে ডাক্তারদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে নতুনদেশ ডটকম। কয়েক বছর আগে ঢাকায় বেইলি রোড এলাকায় পেছন থেকে একটি গাড়ি তাকে চাপা দেওয়ার পর মৃত্যুর সাথে লড়াই করেও বেঁচে যান তিনি। এর পর থেকে চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনি কানাডায় বসবাস করে আসছেন।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা আ ফ ম মাহবুবুল হক ১৯৬২ সালে স্কুল জীবনে শরীফ কমিশনের প্রতিক্রিয়াশীল শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন। তিনি ১৯৬৭-৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৬৮-৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য, ’৬৯-৭০ সালে কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বি এল এফ’র অন্যতম প্রশিক্ষক ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ’৭৩-’৭৮ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।তিনি ১৯৭৮-৮০ সালে ‘জাসদ’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ১৯৮০ সালের শেষের দিকে ‘বাসদের’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন।
১৯৮৩ সালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক নিযুক্ত হন। আপোষহীন এই নেতা ১৯৬৮ সালে প্রথম কারাবরণ করেন। ’৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত পুনরায় রাজবন্দি হিসাবে কারাগারে কাটান। ১৯৮৬ সালে আবার কারাবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে ঋণখেলাপী কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হন।









