শিক্ষার্থীদের সংখ্যায় দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে শুরু থেকেই স্থান নিয়ে আছে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) এবং ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা। এ বছরও প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে। মূলত সারাদেশে এই পরীক্ষার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। অভিভাবক, শিক্ষা এবং শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এই পরীক্ষা নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক, সমালোচনা ছিল। তবে সবচেয়ে বিরক্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তাদের প্রায় সবাই ছোট শিশুদের এত বড় আয়োজনে পরীক্ষা নেয়ার বিপক্ষে।
অবশ্য অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের তুমুল আপত্তিতেও কর্ণপাত করেনি শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এক রকম তারা বাধ্য করেছেন এসব ছোট ছোট বাচ্চাকে পরীক্ষার নামে এত বড় একটা বোঝা চাপিয়ে দিতে। দুই বছর আগেও এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে সরকার কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিল এই পরীক্ষা বন্ধ হবে না।
অনেকদিন পর আবার সেই পিইসি পরীক্ষা নতুন করে আলোচনায় এসেছে আজকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনার পর। তিনি সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে নতুন কিছু ভাবতে বলেছেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘পরীক্ষা নিতে নিতে আমরা শেষ করে দিচ্ছি বাচ্চাদের। খালি পরীক্ষা আর পরীক্ষা। এটা বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।’’ বর্তমানে যে পিইসি পরীক্ষা নেয়া হয়, এটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। তিনিও (প্রধানমন্ত্রী) এর সঙ্গে একমত।’
এই অবস্থায় পিইসি পরীক্ষা থাকবে কি-না, তা পর্যবেক্ষণে রয়েছে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বাচ্চাদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অনেক মন্তব্য করেছেন, আলোচনা করেছেন। বাচ্চারা অনেক বেশি বই কাঁধে নিয়ে ঘোরে, কষ্ট হয়।’ মোট কথা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, পিইসি নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনা করতে। যাতে শিশুদেরকে এই ভার থেকে মুক্তি দেয়া যায়। তারা আনন্দে থাকতে পারেন।
আমরা জানি, পিইসি পরীক্ষায় বসার আগে শিক্ষার্থীদেরকে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যে কারণে চাপটা তাদের ওপর আরও বেশি তৈরি হয়। আর এ নিয়েই বড় সমালোচনা। বলতে গেলে জোর করে এসব শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসিয়ে তাদেরকে চাপের মুখে ফেলে দেয়া হয়। এতে কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়।
আমরা মনে করি, দেরিতে হলেও সরকার প্রধান বিষয়টি অনুভব করেছেন। অবিলম্বে এই পরীক্ষা বাতিল করে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের পথকে বাধামুক্ত করা হোক।







