বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অনুশীলনে ফুটবলের উত্তাপটা চিরচেনাই। গা গরমের জন্য দুদলে ভাগ হয়ে প্রায়ই ফুটবল খেলেন টাইগাররা। সাকিব, মুশফিক, মাশরাফীদের পায়ের জাদুর খানিকটার দেখা মেলে তাতে। বৃষ্টি নামলে তো কথাই নেই। শৈশবে ফিরে যান ক্রিকেটাররা। জলকেলি আর কাদায় শরীর মাখামাখি করে ফুটবলপ্রেমের উচ্ছ্বাসে মাতেন।
ফুটবলের প্রতি টাইগারদের প্রেমটা কয়েকগুণ বেড়ে যায় বিশ্বকাপ এলে। তারাও বিভক্ত হয়ে পড়েন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনায়। জমে ওঠে কথার লড়াই। ব্যস্ত ক্রিকেট সূচির ফাঁক গলে টিভি পর্দায় চোখ রাখেন প্রিয় দলের ম্যাচে। দুয়ারে কড়া নাড়তে থাকা রাশিয়া বিশ্বকাপের সময়ও ব্যতিক্রম হবে না।
ফুটবলের বিশ্বযজ্ঞ যখন মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ দল নেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নামার প্রস্তুতি। তবে ফুটবলও আড়ালে থাকবে না। ক্যারিবীয় দ্বীপে বসেই বিশ্বকাপ উপভোগ করবেন টাইগাররা। ড্রেসিংরুম, মাঠ কিংবা টিম হোটেল, বিদেশ বিভূঁইয়ে হয়ে ক্রিকেটের মাঝেও থাকবে ফুটবলের আলোচনা।
আলোচনায় কী থাকবে? টাইগার ক্রিকেটাররা কে কোন দলের সমর্থক? বিশ্বকাপের বিশেষ আয়োজনে সেটিই জেনেছে চ্যানেল আই অনলাইন।

মাশরাফীর প্রিয় আর্জেন্টিনা
আর্জেন্টিনার প্রতি মাশরাফীর প্রেমের কারণ ডিয়েগো ম্যারাডোনা। প্রিয় দল নিয়ে মাশরাফী বললেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আশা করছি, এবার তারা আরেকটি বিশ্বকাপ জিতবে।’
আর্জেন্টিনার পাঁড়ভক্ত হলেও ব্রাজিলের খেলাও দেখেন মাশরাফী। ওয়ানডে অধিনায়কের ফুটবল-প্রীতির বড় প্রমাণ নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন। নড়াইলে একাডেমি করেছেন যেখানে ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলার তুলে আনার চেষ্টাও করে যাচ্ছেন মাশরাফী। বাবা গোলাম মোর্ত্তজা ছিলেন নামকরা ফুটবলার। বাসায় ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলের আলাপ তাই বেশ জমে ম্যাশের।

তামিমের ব্রাজিল-প্রেম
ব্রাজিলের অন্ধ-সমর্থক তামিম ইকবাল। বাঁহাতি এ ওপেনারের বাবা ছিলেন ফুটবলার। বিশ্বকাপ এলেই তামিম ডুবে যান ফুটবলে। প্রিয় দল ব্রাজিল হওয়ায় সবচেয়ে বেশী তর্ক জমে সতীর্থ মাশরাফীর সঙ্গেই। শুধু তাই নয়, দলে যেকজন ব্রাজিল সমর্থক আছেন তাদের ভরসাও তামিম।
দেশসেরা ওপেনারের ব্রাজিল-প্রেম ফুটে উঠছে তার কথাতেই, ‘ফুটবল নিয়ে সবচেয়ে মজার তর্ক হয় মাশরাফী ভাইয়ের সঙ্গে। গত বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭ গোল খাওয়ার পর খুব খারাপ লেগেছিল। তবে আর্জেন্টিনা-সমর্থক কেউ বলতে এলে বলি, পরের বিশ্বকাপ থেকেও যদি জিততে শুরু করেন আমাদের সমান হতে ১২ বছর লাগবে! ওই লেভেলে আসেন, তারপর কথা হবে!’

মেসিভক্ত মুশফিকের বিশ্বকাপ ‘দুঃখ’
রাশিয়া বিশ্বকাপে বাছাইপর্বের বাধা টপকাতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। টাইগারদের উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের প্রিয় দল ২০১০ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা। এবার তাই খানিকটা মনখারাপ মুশির। তবুও বিশ্বকাপ নিয়ে তার উন্মাদনার কমতি নেই।
কেননা মুশফিকের প্রিয় খেলোয়াড় মেসি যে খেলছেন বিশ্বকাপ। নেদারল্যান্ডস না থাকায় মেসির দল আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন দেবেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল, ‘আমি মেসির খুব বড় ভক্ত। আমি চাই আর্জেন্টিনা অনেকদূর যাক। আর মেসির খেলা যেন বেশি দেখতে পারি। যে টিমই চ্যাম্পিয়ন হোক না হোক, সেরা টিমটাই বিশ্বকাপ জিতবে।’

আর্জেন্টিনার সমর্থক সাকিবও
বাবা মাশরুর রেজা চেয়েছিলেন ছেলে ফুটবলার হোক। সে লক্ষ্যেই তিনি ছেলেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। অথচ সাকিব হয়েছেন ক্রিকেটার। লম্বা সময় ধরে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের মুকুট তার মাথায়। অথচ একটা সময় ফুটবলই ছিল সাকিবের নিত্যসঙ্গী।
সাকিব শৈশবে রাতে ঘুমাতেও যেতেন ফুটবল কোলে নিয়ে। ফুটবলটা এখনও টানে তাকে। মিরপুরে নিজেদের মধ্যে ফুটবল খেলা হলে সাকিবের নামের পাশে থাকে একটি অন্তত গোল! মাশরাফী-মুশফিকদের ফুটবল দলের ‘মেসি’ও যেন সাকিব! আর ওয়ানডে অধিনায়কের মতো টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়কেরও প্রিয় দল মেসির আর্জেন্টিনা।

একবিন্দুতে মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক
মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ শুধু সতীর্থই নন, পারিবারিক সম্পর্কে তারা দুজন ভায়রা-ভাই। দুজনই আবার একটু চুপচাপ স্বভাবের। তাদের মধ্যে দারুণ মিল ফুটবল দল সমর্থনেও। মুশফিকের যেমন মেসির খেলা ভালো লাগে, মাহমুদউল্লাহরও তাই।
ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার ভক্ত অলরাউন্ডার মহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্রাজিলের মতো তার দল এতএত শিরোপা না জিতলেও এবার আশায় বুক বেধেছেন রিয়াদ, আশা বিশ্বকাপ ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরবেন তার প্রিয় দল মেসির আর্জেন্টিনাই।

দুই দলের সমর্থক সৌম্য
ফুটবল সমর্থনে সৌম্য সরকার ব্যতিক্রমী ভূমিকায়। দুটি দল তার পছন্দের তালিকায়। একটি ব্রাজিল, অন্যটি পর্তুগাল। ছোটবেলা থেকেই সৌম্যর প্রিয় দল ব্রাজিল। বিশেষ করে রোনালদিনহোর কারণে দলটির ভক্ত হয়ে যান বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান।
অন্যদিকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তার আরেক পছন্দের ফুটবলার। যে কারণে পর্তুগাল ভালো করুক চান সেটাও, ‘আমি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর কারণে পর্তুগালের সমর্থক। ওদের খেলা দেখি। আর ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। বেশি শিরোপা জিতেছে বলে ব্রাজিলের সমর্থক এমন নয়, তাদের ফুটবল আসলেই ভালো লাগে।’

ব্রাজিল ছাড়া কিছুই বোঝেন না তাসকিন
‘আমি ব্রাজিল ছাড়া কিছুই বুঝি না। ফুটবলটা দারুণ ভালো লাগে। রাতে আমি বাসায় ফুটবলটাই বেশি দেখি। এ বিশ্বকাপেও আয়োজন করে ফুটবল দেখবো।’ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে এভাবেই বলছিলেন তাসকিন।
বাংলাদেশ দরে আর্জেন্টিনার সমর্থকই বেশি। তামিমের সঙ্গে জুটি হয়ে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তর্কেও মাতেন এ টাইগার পেসার, ‘সুযোগ হলেই দলের মধ্যে ফুটবল নিয়ে ঝগড়া হয়। আমি ছাড়াও ব্রাজিলের বড় ভক্ত তামিম ভাই আছেন। যখন তর্ক শুরু হয় কেউ কাউকে ছাড়ে না। আপনি জাতীয় দলের কথা বাদ দেন, আমার বাসাতেও আমি ব্রাজিল নিয়ে খুব অসহায়।’

মেসির হাতে বিশ্বকাপ দেখতে চান রাজ্জাক
জাতীয় দল তারকা আব্দুর রাজ্জাক ম্যারাডোনা ও মেসির দারুণ ভক্ত। এবার মেসির হাতে কাঙ্ক্ষিত শিরোপাটা দেখতে চান এ বাঁহাতি স্পিনার। বললেন আর্জেন্টিনা নিয়ে উচ্ছ্বাসের কথা।
‘আমি টিভিতে ফুটবল দেখি। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ তো মিস করিই-না। আর আর্জেন্টিনার খেলা হলে তো কথাই নেই। অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি থাকে কীভাবে খেলা দেখবো।’

ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলই বেশি টানে তুষারকে
অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তুষার ইমরান ৩৪ বছর বয়সেও ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করে চলেছেন দাপটের সঙ্গে। হাঁকাচ্ছেন একের পর এক সেঞ্চুরি। তবে ক্রিকেটের চেয়ে তিনি ফুটবলই বেশি ভালোবাসেন। যে কারণে সারাদিন ক্রিকেট খেলেও রাত জেগে দেখেন যেকোনো ফুটবল লিগ। আর বিশ্বকাপ এলে তো কথাই নেই, টিভির সামনে থেকে তুষারকে সরানো কঠিন।
বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ উঠতেই তুষার বললেন, ‘আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা, আমার প্রিয় ফুটবলার ম্যারাডোনা। বলতে পারেন ম্যারাডোনাকে দেখেই আমি ফুটবলের এমন অন্ধ ভক্ত। আমি ক্রিকেট খেলি ঠিক আছে। কিন্তু আমার মন পড়ে থাকে ফুটবলেই। সারাদিন সুযোগ না পেলেও রাতে বসে বসে লিগের খেলা দেখি। আর আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার ম্যাচ হলে তো কথাই নেই।’

ব্রাজিলের খেলায় অন্যরকম জাদু দেখেন মোসাদ্দেক
ফুটবল পেলেই নিজেকে ফুটবলার ভাবতে শুরু করেন মোসাদ্দেক। ক্রিকেটের পরই তার প্রিয় খেলা এটি। অপেক্ষায় দিন গুনছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের উত্তেজনায় মাতার। তার প্রিয় দল ব্রাজিল এবার একটি শিরোপা পাবে, এমন প্রত্যাশা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। শিরোপার কারণেই তিনি ব্রাজিলের ভক্ত বলে জানালেন!
‘আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা দেখি। এই দলকে সমর্থন করি। কারণ ওরা বেশিবার বিশ্বকাপে শিরোপ জিতেছে।’ সঙ্গে ব্রাজিলের ফুটবল শৈলীও টানে তরুণ এ ক্রিকেটারকে, ‘ভালো দল ও ভালো খেলে বলেই তো ব্রাজিল এত শিরোপা জিতেছে। শুধু কাপ বেশি নিয়েছে বলে আমি সমর্থন করি, তা কিন্তু ঠিক নয়। ওদের খেলায় অন্যরকম একটা জাদু আছে।’

ফুটবল নিয়েই বেশি কথা বলতেন মুমিনুল
প্রসঙ্গ উঠতেই মুমিনুল হক স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার দারুণ ভক্ত। ছোটবেলা থেকেই ফুটবল পছন্দ করি। ম্যারাডোনা আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়। তাকেই দেখেই ফুটবল খেলা ভালোবাসতে শুরু করি। এখন ভালোলাগার তালিকায় যোগ হয়েছে মেসি। বলতে পারেন এ দু’জনের কারণেই আমি আর্জেন্টিনা করি ও ফুটবল খেলা পছন্দ করি।’
‘বিকেএসপিতে যখন থাকতাম, তখন ক্রিকেটের বাইরে আমরা বন্ধুরা মিলে ফুটবল নিয়েই বেশি কথা বলতাম। এর আগের বিশ্বকাপগুলো দারুণ উপভোগ করেছি। এবার খুব একটা করতে পারবো না। কারণ সেই সময় আমাদের ওয়েস্ট ইন্ডিজে সফর থাকবে। তবে চেষ্টা থাকবে যেন অন্তত আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলো হলেও দেখতে পারি।’ প্রিয় দল নিয়ে মুমিনুলের উচ্ছ্বাস এমনই।

পরিবারের কারণে আর্জেন্টিনার সমর্থক নাসির
পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। সবার উচ্ছ্বাস-উৎসাহ দেখে নাসিরও একই দলটির ভক্ত হয়ে গেছেন। ক্রিকেটের বাইরে তার কাছে ফুটবল প্রিয় খেলা। উপভোগ করতে চার এবারের বিশ্বকাপও।
যদিও ফুটবলের কারণেই অস্বস্তির এক সময়ে ডুবে আছেন নাসির। গত মাসে আগে বন্ধুর বিয়েতে দাওয়াত খেতে গিয়ে ফুটবল খেলতে নেমেছিলেন। সেসময় পড়ে গিয়ে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে এখন অস্ত্রোপচারের অপেক্ষায় টাইগার অলরাউন্ডার। তারপর থাকতে চবে মাঠের বাইরে, সেটা ছয় মাসের মত দীর্ঘ হতে পারে। পুনর্বাসনের শুরুর সময়টা হয়ত ফুটবল দেখেই কাটাতে হবে নাসিরকে।

রুবেলের প্রিয় দল ব্রাজিল
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে ব্রাজিল সমর্থকদের সংখ্যা ভারী করেছেন রুবেল হোসেন। শুধু তাই নয়, মাঠে যখন ক্রিকেটাররা ফুটবল খেলেন তখন তাকে দেখা যায় সবচেয়ে সরব। নিজের প্রিয় দল ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে টাইগার পেসারের উচ্ছ্বাস ঝরল চোখে পড়ার মতই।
‘আমি ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলে বড় হয়েছি। এটি আমার ফিটনেসের জন্য অনেক উপকারীও। আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। আমি তাদের খেলা দেখেই ফুটবলটাকে বেশি ভালোবাসি। বিশেষ করে রোনালদো, রোনালদিনহো, কাকা, কার্লোসরাই আমার আসল হিরো। এখন তো নেইমার আছেই সেই তালিকায়।’

শান্তর পরিবারের সবাই আর্জেন্টিনা
মেসির খেলা দেখেই বড় হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যারাডোনার খেলা তেমন না দেখা হলেও আর্জেন্টিনা পছন্দের দল হয়ে ওঠার পেছনে ভূমিকা আছে এই কিংবদন্তির। বিশ্বকাপে পছন্দের দল সম্পর্কে জানতে চাওয়া মাত্র ঝটপট উত্তর শান্তর, উত্তরটা আর্জেন্টিনার পক্ষেই।
‘ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার সাপোর্টার, কারণ মেসি আছে। ম্যারাডোনার প্রভাব কিছুটা আছে। যদিও ওনার খেলা ওভাবে দেখিনি। ম্যারাডোনা-মেসি, ওখান থেকেই আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। পরিবারের সবাই মোটামুটি আর্জেন্টিনা। যখনই বিশ্বকাপ আসে, ফুটবল নিয়ে একটা রোমাঞ্চ থাকে। এবারও ক্রিকেটের পাশাপাশি সেটা থাকবে। গত বছর ছাদে আর্জেন্টিনার পতাকা টাঙিয়েছিলাম। এবারও হয়ত হবে।’
মিরাজের দল ব্রাজিল
ব্রাজিলের তিন ফুটবলার রোনালদিনহো, কাকা ও নেইমারের ভক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। এ অলরাউন্ডার পছন্দ করেন মেসির খেলাও। তবে মনে-প্রাণে চান ব্রাজিল ভালো করুক বিশ্বকাপে।
‘আমার প্রিয় দল ব্রাজিল। ছোটবেলা থেকেই দলটির খেলা দেখতাম। এলাকার বড় ভাইদের সঙ্গে মজা করি ‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল’ নিয়ে। দুষ্টুমি করা হয়। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় এবং দল দুটির সাপোর্টার বাংলাদেশে খুব বেশি। ফুটবল খেলা দেখতে খুব ভালো লাগে। রাতে খেলা হয়, বড় পর্দায় দেখা হয়। ৯০ মিনিটের খেলা টান টান উত্তেজনা থাকে। আমার প্রিয় খেলোয়াড় রোনালদিনহো, কাকা, নেইমার। মেসির খেলাও ভালো লাগে।’

ব্যতিক্রম আবু জায়েদ রাহী
‘এখনও কোনো টিম চয়েস করতে পারি নাই। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি কোনো আগ্রহই ছিল না। পছন্দ করতাম মেসিকে। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ হলে দেখি, অন্যথায় দেখি না। সময় পেলে ক্রিকেটই খেলতাম শুধু। ফুটবলে গোলকিপিং করতে গিয়ে চোখের উপরে পাঁচ সেলাই লেগেছিল, ক্রিকেট খেলেও কখনও এমন হয়নি।’ রাহীর সোজাসাপ্টা উত্তর।
তবে জানালেন সমর্থনের কথাও, ‘বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ম্যাচে আর্জেন্টিনা করবো। ব্রাজিল যদি অন্য দলের সঙ্গে খেলে তখন ব্রাজিল। আর্জেন্টিনা যাদের সঙ্গেই খেলুক আর্জেন্টিনার পক্ষ নিবো। বিশ্বকাপের ফাইনাল অবশ্যই দেখব।’

ছোটবেলায় আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা বানাতেন আবু হায়দার
মেসির খেলা ভালো লাগে। উচ্ছ্বাস আবু হায়দার রনির কণ্ঠে। সঙ্গে যোগ করলেন, ম্যারাডোনার কথা তো না বললেই নয়। সোজা কথা আর্জেন্টিনার পাঁড়ভক্ত জাতীয় দলের এ পেসার।
বাড়ি নেত্রকোনায়। সেখানে এখন খুবএকটা থাকা হয় না। জানালেন, নেত্রোকোনায় থাকতে শৈশবে অনেক বড় পতাকা বানাতেন। জাতীয় দল সতীর্থ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের সাথে ভালো তর্ক হয় রনির। সৈকত যে ব্রাজিল সমর্থক। সবমিলিয়ে ফুটবলটা ভালোই উপভোগ করেন বলে জানালেন।

আবুল হাসানের কাছে ফুটবল মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা
আবুল হাসান রাজু ও তার পরিবারের সবাই ব্রাজিল সমর্থক। ফুটবল মানেই এই পেসারের কাছে ব্রাজিলের সঙ্গে আর্জেন্টিনার দ্বৈরথ, ‘ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের খেলা দেখে আসতেছি। ফ্যামিলির সবাই ব্রাজিল। আব্বা যখন ছিলেন তখন তার সঙ্গে একটু বাধত আমাদের সবার। আব্বা ছিলেন অন্য দলের সমর্থক। আমি রোনাল্ডো ও কাকার খুব ভক্ত। শেষবার যখন বিশ্বকাপ নিলো, সেবার মিছিল করতে বেরিয়েছিলাম ঢোল নিয়ে। ফুটবল মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। এটা না থাকলে খেলা জমতই না।’

আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ দেখতে চান সোহান
বিশ্বকাপ যখন চলবে, থাকবে বাংলাদেশ দলের খেলাও। দলে থাকার সম্ভাবনা তার ভালোই আছে। তবে তারমধ্যেও প্রিয় দল আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ দেখতে চান নুরুল হাসান সোহান।
এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান জানালেন, ‘আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। ফ্রি থাকলে সব ম্যাচ দেখতে চেষ্টা করি। এবারও করবো। মেসির খেলা খুব ভালো লাগে। ম্যারাডোনাকে ভালো লাগত।

আর্জেন্টিনার পতাকা এবারও টাঙাবেন শামসুর
‘অবশ্যই আমি আর্জেন্টিনা। আমার পুরো ফ্যামিলি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। শুরুটা ওখান থেকেই। মা শুধু ইতালি সাপোর্ট করে। দুর্ভাগ্যজনক হল, ইতালি খেলতেছে না এবার। খেলা দেখার সময় খাওয়া-দাওয়া হয়। খুব হইচই হয়। আর পতাকা আমি সবসময়ই লাগাই। উপরে বাংলাদেশের পতাকা, নিচে আর্জেন্টিনার পতাকা। এটা আমি সবসময়ই বাসার ছাদে লাগাই। এবারও টাঙাব। যখন আমি ফুটবল বুঝতে শুরু করি তখন থেকেই পতাকা লাগানোর প্রবণতা।’ এক নিঃশ্বাসে জানালেন শামসুর রহমান শুভ।







