আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে রাশিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব। চলতি বিশ্বকাপের প্রথমপর্ব এমনিতেই স্নায়ুর পরীক্ষা নিয়েছে অনেক। তার ওপর নক আউটের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি দুই হট-ফেভারিট আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স। যেখানে ভুলের কোনো সুযোগ নেই।
আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স মহারণের আগে জেনে নেয়া যাক দরকারি কিছু তথ্য-
কবে-কখন-কোথায় ম্যাচ?
রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম নক আউট ম্যাচ হবে কাজান অ্যারেনায়। ৩০ জুন, শনিবার। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়।
কাদের দিকে থাকবে নজর?
আর্জেন্টিনা: অবশ্যই লিওনেল মেসির দিকে। আলবিসেলেস্তেদের দলভর্তি তারকা থাকলেও এক মেসিতেই ভরসা খুঁজতে হচ্ছে। মেসিও কী পেরেছেন মন ভরাতে? উত্তর খুব সম্ভবত না! এক নাইজেরিয়া ছাড়া ক্রোয়েশিয়া ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে একদমই খুঁজে পাওয়া যায়নি মহাতারকাকে।
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মার্কোস রোহোর ৮৬ মিনিটে গোল না পেলে কী হত সবারই জানা। এক গোল পেলেও গ্রুপপর্বে যেহেতু খুব একটা জ্বলে উঠতে পারেননি, তাই মেসির কাছে একটা আগুনে পারফরম্যান্স পাওনাই আছে বিশ্বকাপের! ফ্রান্সের বিপক্ষেই সেটা হয়ে গেলে লাভটা আর্জেন্টিনারই।
ফ্রান্স: এই দলটাতে কাকে রেখে কার দিকে তাকাবেন সেটাই যেন বড় বিস্ময়! পুরো দলই ভর্তি তারকা দিয়ে। কাইলিয়ান এমবাপে, অ্যান্টনে গ্রিজম্যান, উসমানে ডেম্বেলে, অলিভিয়ে জিরুদ; বিশ্বকাপে আসার আগে ছিলেন দারুণ ফর্মে। কিন্তু এক পল পগবা ছাড়া নামগুলোকে বিশ্বমঞ্চে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পগবাই হয়ে উঠতে পারেন ফরাসিদের মূল অস্ত্র। আর বাকিরা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলে দুর্বল রক্ষণ নিয়ে ফ্রান্সকে আটকানো কঠিন হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার।
কোথায় দুর্বলতা আর্জেন্টিনার?
ভীষণ রকমের নড়বড়ে রক্ষণভাগ। আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়াই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে একটু চাপে পড়লেই সেটা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনার জন্য। লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দি করে রাখলেই বেরিয়ে পড়ে আক্রমণভাগের কঙ্কাল। প্রথমে গোল হজম করে বসলে সেটা ফেরত দেয়া যেন আরও দুঃসাধ্য বিষয়! তার ওপর ফ্রান্সের আছে ভীষণ রকম গতিশীল এক আক্রমণভাগ। মাশ্চেরানো, মের্কাদো, টাগলিয়াফিগোদের নিয়ে সাজানো বুড়ো-নড়বড়ে রক্ষণভাগকে বড় রকমের পরীক্ষাই দিতে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।
কোথায় দুর্বল ফ্রান্স?
তারুণ্যই যদি শক্তি হয় তবে এই তারুণ্যটাই বড় দুর্বলতা ফ্রান্সের। গ্রুপ ‘সি’ থেকে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্টে গ্রুপের সেরা হয়ে নক আউটে উঠেছে ঠিকই, কিন্তু দলের খেলায় মন ভরাতে পারেনি ফ্রান্স। গ্রিজম্যান-জিরুদ-ডেম্বেলেরা ছিলেন ভীষণ রকম নিষ্প্রভ। দলে সমন্বয়ের অভাব চোখে পড়ার মতো! ইউরোতে রানার্সআপ হওয়া দলটার সঙ্গে এই দলটার পার্থক্য অনেক। মেসিকে আটকাতে না পারলে কপালে দুঃখ আছে ফরাসিদের।
কার পক্ষে কত বাজির দর?
নাইজেরিয়া ম্যাচ ছাড়া আর কোনো খেলায় মন ভরাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তাই তাদের পক্ষে বাজি দর গেছে পড়ে। মেসিদের পক্ষে বাজির দরটা এখন ২৭/১০! আর ফ্রান্সের পক্ষে বাজির দরটা এখন ১৩/১০!







