মেসি-হিগুয়েন ও আগুয়েরোকে ছাড়াই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। শনিবার গুয়েতেমালাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ বিপর্যয় পরবর্তী মিশন শুরু করেছে আকাশী-নীলরা। দলের তিন গোলের একটি গোল করে সেই ম্যাচের অন্যতম নায়ক জিওভান্নি সিমিওনে।
এই সিমিওনে হলেন বর্তমানে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনের বড় ছেলে। ডিয়েগো আর্জেন্টিনা ফুটবলের কিংবদন্তি। তিনি ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও।
বাবা সিমিওনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১০৬ ম্যাচ খেলেছেন। আর ছেলে সিমিওনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে খেললেও সিনিয়র দলের হয়ে এই প্রথম খেললেন। অভিষেক ম্যাচে জয়ের সঙ্গে গোলও পেয়েছেন ইতালিয়ান ক্লাব ফিওরেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড।
জিওভান্নির জীবন কার্যত যাযাবরের মতো। তার জন্ম স্পেনের মাদ্রিদে। কারণ তার জন্মের সময় বাবা সিমিওনে খেলতেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে। জন্মসূত্রে জিওভান্নি স্পেনের নাগরিকত্বও পেয়েছেন।
জিওভান্নির জন্মের পর সিমিওনে চলে যান ইতালিতে। বাবার সঙ্গে তাকে যেতে হয় ইতালিতে। ফুটবল জীবন শেষে ডিয়েগো ফেরেন আর্জেন্টিনায়। ছেলেও ফেরেন দেশে। সেখানেই দেশের বিখ্যাত ক্লাব রিভার প্লেটের হয়ে ফুটবল জীবন শুরু।
এরপর ডিয়েগো কোচ হয়ে স্পেনে ফিরলেও জিওভান্নি চলে যান ইতালিতে। লিওনের মেসির মতো স্পেন এবং আর্জেন্টিনা দুদেশের হয়েই খেলার সুযোগ থাকলেও জিওভান্নি বেছে নেন আর্জেন্টিনাকেই। সেটা বাবার পরামর্শেই।
গুয়েতেমালাকে হারানোর পর জিওভান্নি বলেছেন, ‘আমার বয়স যখন ১৬, তখন বাবা বলেছিলেন তোমাকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখতে চাই। আজ (শনিবার) বাবার স্বপ্ন পূরণ করার পর আমার টার্গেট, পাকাপাকিভাবে এই জার্সি ধরে রাখা।’
জিওভান্নির বাবার স্বপ্নের মতো ‘যাযাবর’কে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরাও।
দুই মাস আগে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ফ্রান্সের কাছে হেরে ছিটকে গিয়েছিলেন মেসিরা। তারপর প্রথমবার মাঠে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে জয়ও পেয়েছে তারা।
এর মধ্যে অবশ্য দলের কোচ বদলেছে। হোর্হে সাম্পাওলির পরিবর্তে খণ্ডকালীন কোচ হয়েছেন লিওনেল স্কোলানি। তিনি এসেই চাইছেন, একটা নতুন দল গড়ে তুলতে। তাই বিশ্রামে পাঠিয়েছেন মেসিদের। নতুনরা অবশ্য তারকাদের অভাব টেরই পেতে দেননি।






