আবারও মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদাল! চলতি বছরের এক-তৃতীয়াংশ পার হয়নি, এরমধ্যেই টেনিসের সব রোমাঞ্চের পসরা সাজিয়ে এবছর তৃতীয়বারের মত মুখোমুখিতে প্রস্তুত রাফা-ফেডক্স।
শুক্রবার রাতে নিক কিরগিওসকে ৭-৬(১১-৯), ৬-৭(৯-১১), ৭-৬(৭-৫) গেমে হারিয়েছেন ফেদেরার। ২০০৬ সালের পর আবারো মিয়ামি ওপেনের ফাইনালে উঠছেন এই সুইস টেনিস কিংবদন্তি। অন্যদিকে ফ্যাবিও ফগনিনির বিপক্ষে ৬-১, ৭-৫ গেমের সহজ জয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়ার টিকিট পেয়েছেন স্প্যানিশ নাদাল। ২০০৪ সালের মিয়ামি ওপেনেই দুই মহাতারকা প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
তবে কোর্টের দ্বৈরথকে ছাপিয়ে আলোচনায় তাদের নতুন করে প্রত্যাবর্তনের গল্প। বয়স আর চোটের কারণে ফর্ম হারানো, পাদপ্রদীপের বাইরেই চলে যাওয়া, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ২০১২ সালের পর কোন গ্র্যান্ড স্লাম জেতেননি ফেদেরার, নাদালের সর্বশেষ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ২০১৪ ফ্রেঞ্চ ওপেনে। পরে মারে-জোকোভিচের দাপটে দুজনের পক্ষে বাজি ধরার মত টেনিস ভক্তই পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেখান থেকেই ফিনিক্স পাখির মত জেগে ওঠা।
কিন্তু সত্যিকারের যোদ্ধারা যে রণে ভঙ্গ দেন না তার আরেক উদাহরণ ফেডেক্স-রাফা। দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতে ১৮তম গ্র্যান্ড স্লামের দেখা পেয়েছেন ফেদেরার। প্রতিপক্ষ ছিলেন নাদাল। ইন্ডিয়ান ওয়েলসও জিতেছেন ফেড-এক্স। সেখানেও শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষ নাদাল। এবার নাদালের সুযোগ প্রতিশোধের, আর ফেদেরারের ব্যবধান বাড়িয়ে নেওয়ার। চলতি বছরের তৃতীয় মেজর শিরোপা জেতার।
রোমাঞ্চটা অবশ্য কেবল টেনিসপ্রেমীদের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একে অপরের সঙ্গে লড়াইয়ের উত্তেজনায় ফুটছেন দুই তারকাও। ফেদেরার তো বলেই বসেছেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। ঠিক যেন পুরানো দিনগুলোর মত।’ নাদালের উওর, ‘রজারের বিপক্ষে খেলার জন্য তর সইছে না। সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। আমার মনে হয় সবার জন্যই।’
অবশ্য এপর্যন্ত ৩৬ বারের দেখায় ২৩ বার জিতে পাল্লাটা নিজের দিকে হেলে রেখেছেন ১৪ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী নাদালই।






