চট্টগ্রাম থেকে: কিছু করে দেখাতে চান অথচ সুযোগ মেলে না। যে ম্যাচে বল হাতে পান তো মেলে না ব্যাটিং করার সুযোগ। অলরাউন্ডার হিসেবে প্রমাণ করার অপেক্ষায় থাকা আরিফুল হক দুই বিভাগকে এক করে জবাব দিতে চান টেস্টে। যেখানে থাকবে ব্যাটিং-বোলিং করার ‘অবারিত’ সময় ও সুযোগ।
টি-টুয়েন্টি অভিষেকের পর আট ম্যাচ ছিলেন একাদশের বাইরে। ওয়ানডে অভিষেক হতে অপেক্ষা করতে হয়েছে আট ম্যাচ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে হয়েছে অপেক্ষার অবসান। বোলিং করেছেন মাত্র ৩ ওভার। সৌম্য-ইমরুলের দুর্বার ইনিংসের পর আর ব্যাটিংয়েই নামতে পারেননি।
নিজেকে প্রমাণের অপেক্ষায় থাকা আরিফুলের কাছে নিজের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। আগের ৬টি টি-টুয়েন্টিতেও এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে ২৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটারের। অনেক ম্যাচে ব্যাটিং পেলেও পাননি বোলিং।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে ডাক পেয়েছেন আরিফুল। একজন টেস্ট ক্রিকেটারের যে সম্মান সেই যোগ্যতা দেখাতে চান একাদশে সুযোগ এলেই। প্রথম টেস্টের ভেন্যু সিলেটে পা রাখার আগে এ অলরাউন্ডার চট্টগ্রামে খেলবেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। তার আগে টিম হোটেলের লবিতে বসে কথা বললেন ক্রিকেট, নিজের স্বপ্ন ও ভাবনা নিয়ে।
হোয়াইটওয়াশের মঞ্চে ওয়ানডে অভিষেক হল। তাতে আক্ষেপ কাটল কিনা?
এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি যে সিরিজ জিতেছি, হোয়াইটওয়াশ করেছি। আমার দিক থেকে এখনও নিজেকে ওভাবে শো করতে পারিনি বা সুযোগ পাইনি। ব্যাটিংয়ের আক্ষেপটা এখনও মেটেনি। আমার ক্ষুধা এখনও পরিপূর্ণ হয়নি। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে টিমে থাকা বা ব্যাটিং-বোলিং করা, আমি ওভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারিনি তো আমার আক্ষেপ এখনও আছে, ক্ষুধা এখনও আছে।

দেরিতে হলেও অভিষেক তো হল। সামনে বিশ্বকাপ, টেস্টে দলেও ডাক পেলেন। সামনের সময় নিয়ে কি পরিকল্পনা?
টেস্টে আছি(ভেবে) আর বিশ্বকাপ খেলার তো স্বপ্ন থাকে সবার, যদি আমি নিজেকে শো করতে না পারি তাহলে পারব কি পারব না, জানি না। আমার দিক থেকে চেষ্টা থাকবে যদি সুযোগ পাই ভালো সার্ভিস দেয়ার। পাকাপোক্ত জায়গা, যে জায়গাটাতে নির্বাচক-টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে নিয়ে ভাবছেন। দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে যাতে থাকা যায়; আমি আসলে মানসিকভাবে সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছি। চিন্তা করছি সামনে টেস্ট আছে যদি ভালো করি তাহলে হয়তো ওয়ানডেতে নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাব। স্বপ্ন ছিল একটা টেস্ট খেলবো, সে স্বপ্নটা যদি সত্যি হয় একটাই লক্ষ্য পারফর্ম করা আর একটা টেস্ট খেলোয়াড়ের যে মর্যাদা বা সম্মান সে যোগ্যতা দেখানো।
ওয়ানডে দলে প্রতিযোগিতা অনেক। নির্দিষ্ট কোনো পজিশন টার্গেট করেছেন কিনা?
আমি নিজেই অনুভব করি আমার বোলিংয়ে আরও উন্নতি করা উচিত। বোলিং নিয়ে মনোযোগ দিচ্ছি। উন্নতি করার চেষ্টা করছি। ওয়ানডেতে যেন ১০ ওভার বোলিং করতে পারি সেরকমই চিন্তা-ভাবনা করছি। আর ব্যাটিংয়ে যেকোনো জায়গাতেই খেলতে আমি প্রস্তুত।
বোলিং নিয়ে নির্দিষ্টভাবে কোনো কাজ করেছেন কিনা?
ঠিক জায়গায় বোলিং করা বা যেভাবে দশ ওভার বোলিং করা যায় সে সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছি।
শর্টার ভার্সনে সুযোগ পাননি সেভাবে। সময়ও পেয়েছেন কম। অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার বড় জায়গা বা সুযোগ টেস্ট কিনা?
হ্যাঁ, টেস্ট ক্রিকেটে আপনি সুযোগ পাবেনই। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে প্রমাণ করার এটাই জায়গা। এভাবে মানসিকভাবে চিন্তা করছি।
জাতীয় লিগে কিছুদিন আগেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সেটি কতটা কাজে দেবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে?
যত লম্বা সময় ব্যাটিং করতে পারেন, বড় রান করতে পারেন, আত্মবিশ্বাস তত ভালো থাকে। ওটা(ডাবল সেঞ্চুরি) বেশ উপকারে আসবে নিজের উপর বিশ্বাস ধরে রাখতে।

প্রধান নির্বাচক বলেছেন, লোয়ার মিডলঅর্ডারে দ্রুত রান বাড়িয়ে নেয়ার সক্ষমতা আপনার আছে। সে বিবেচনায় দলে এসেছেন।
দুই ধরণের পরিস্থিতিতেই আমি ব্যাটিং করতে পারি। এখন যদি পরিস্থিতি আসে কুইক রান করতে হবে, সেভাবেই প্রস্তুত আছি। দল বা ম্যাচের পরিস্থিতি যেটি ডিমান্ড করবে সেটি পূরণের জন্য প্রস্তুত আছি। সুযোগ যেখানেই পাই না কেনো, আমার টার্গেট পারফর্ম করা। তাতে যেখানেই নামি না কেনো। যদি শেষেও নামি লক্ষ্য থাকবে বোলারকে কম বল খেলতে দিয়ে রান বের করা। আমার লক্ষ্য বড় ইনিংস খেলার।
অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলের সাথে আছেন। বেশিরভাগ সময় দলের বাইরে থাকলেও নেটে অনেক কাজ করেছেন। ওয়ালশের সঙ্গেও কাজ করেছেন। এখান থেকে কতটা শিখছেন?
এরকম পরিবেশে(জাতীয় দল) থাকলে নিজের উন্নতি করা সহজ হয়। যদি জাতীয় দলের বাইরে থাকি এত ভালো কোচ পাব না। নিজে নিজেই করতে হবে সবকিছু। এখানে থাকা অনেক বড় সুযোগ উন্নতি করার। ওয়ানডেতে অনেকদিন ধরে আছি এটা আমার জন্য ভালো হচ্ছে, অনেক খেলোয়াড় দেখছি, আন্তর্জাতিক পরিবেশ বোঝার ব্যাপার আছে, নিজের অভিজ্ঞতা ভালো হচ্ছে।








