সংবাদ সম্মেলনে সেই আগের হাসিটা সবসময় ছিল। একে তো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, তারপর সামনে প্রথম ম্যাচ। মাশরাফি কথা বললেন মাটিতে পা রেখে। আর স্বভাবসুলভ দুষ্টুমিতে। একবারও মুখ থেকে উচ্চারণ করলেন না, ‘আমরাই জিতবো’। কেন এই অবস্থান? প্রশ্ন ধেয়ে আসতেই মাশরাফির উত্তর, ‘আমি ওই টাইপের মানুষ নই। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে খেলা হলেও বলতাম কী হবে জানি না।’
মাশরাফি ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনের পুরোটা সময় ইংল্যান্ডকে সমীহই করলেন। স্বাগতিক দেশের সাংবাদিকরা ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দিতে চাইলেন। মাশরাফি কাট করে গেলেন, ‘আপনি যদি শেষ পাঁচ-ছয়টি ম্যাচ দেখেন, তাহলে বুঝবেন আমরা ভালো করছি। অবশ্যই ৮৪তে আমরা আউট হতে চাইনি। আশা করবো ব্যাটসম্যানরা তাদের ভূমিকা বুঝতে পারবে। সামনের ম্যাচে আরও সতর্ক হতে হবে। আমি মনে করি সামনের দিন আমরা সামলে নিব।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জয় আছে। প্রথম ম্যাচে মাঠের নামে সেই ইতিহাস মাশরাফিরও স্মরণে আছে। কিন্তু তিনি এখানেও বাস্তববাদী, ‘ওটা বেশ আগের কথা। আমরা এখন অনেক উন্নতি করেছি। কিন্তু ইংল্যান্ড ফেভারিট। কন্ডিশন এবং তাদের ফর্ম বিবেচনায় নিলে তারাই এগিয়ে থাকছে।’
তাই বলে স্বাগতিকদের একেবারে ছেড়ে দিচ্ছেন না অধিনায়ক, ‘আমাদের জন্য ভালো সুযোগ। সারা বিশ্বকে দেখানোর সুযোগ যে আমরা উপমহাদেশের বাইরেও ভালো খেলতে পারি।’
শেষ দুই বছরে ক্রিকেটবিশ্বের কাছে বিস্ময়ের নাম বাংলাদেশ। র্যাঙ্কিংয়ে ছয় নম্বরে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে গেছে দেশ। এই অর্জনে মাশরাফি গর্বিত, ‘আমরা যে ধরনের ক্রিকেট খেলছি, তাতে গর্বিত হতেই পারি। অনেকেই ভাবেনি আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলবো।’
মাশরাফিদের নিয়ে দেশবাসীর আশা এখন তুঙ্গে। অধিনায়ক নিজেও সেটা জানেন। এই টুর্নামেন্ট ঘিরে নিজেদেরও ব্যক্তিগত কিছু আশা আছে। মাশরাফির ইচ্ছা সেই আশাও পূরণ হবে, ‘মানুষের কথা বাদ দিলে আমাদের নিজেদের কিছু আশা আছে। এই টুর্নামেন্টে সবার চোখ থাকে। এখানে নিজেদের চেনানো যায়। এখনই দেখানোর সময়।’
ইংল্যান্ডের উইকেট কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। মাশরাফি মনে করছেন হাইস্কোরিং উইকেটই হবে, ‘বিশ্বকাপ কিংবা এই ধরনের টুর্নামেন্টে ব্যাটিং উইকেট হয়। এটাই নিয়ম। সেই হিসেবে হাইস্কোরিং উইকেটই হবে বলে মনে হয়।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কীভাবে ম্যাচ ধরতে হবে সেই টোটকাও জানা তার, ‘শুধু ভালো শুরু করলে হবে না। সেটা ধরে রাখতে হবে। এবং ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নিয়ে আসতে হবে।’








