‘উনি আমার সমবয়সী। কিন্তু আমি ভাবতাম উনি আমার বড়। যদিও কেন যেন তিনি আমাকে সব সময়ে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন’। মুক্তিযোদ্ধা-ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে স্মরণ করে চ্যানেল আইয়ের তারকা কথন অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশীদ।
মামুনুর রশীদ বলেন, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী থাকতেন প্রকৃতির কাছাকাছি খোলামেলা বাড়িতে। প্রকৃতির এত কাছে থাকা মানুষটি ছিলেন ভীষণ সাহসীও। মুক্তিযুদ্ধের পরেও যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেই সেখানে তার উপস্থিতি ছিল অনিবার্য। শেষের দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তারপরেও কষ্ট করে হলেও উপস্থিত থাকার চেষ্টা করতেন তিনি। ‘নিন্দিত নন্দন’ বইতেও খুব সাহসিকতার সাথে তিনি তার জীবন তুলে ধরেছেন।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ভাস্কর্য সম্পর্কে মামুনুর রশীদ বলেন, তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী ভাস্কর। ঝরা পাতা, শুকনো ডাল, গাছের গুঁড়ি দিয়েই তিনি গৃহের নানা শিল্পকর্ম তৈরি করতেন। খুব সস্তা ও অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ভাস্কর্য তৈরি করতে পারতেন তিনি, এই ক্ষমতা সবার থাকে না।
মামুনুর রশীদ আরও বলেন, স্মৃতি তো খুব দ্রুত ধূসর হয়ে যায়। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে শোকের আয়ু মাত্র এক বছর। কিন্তু উনি বেঁচে থাকবেন কাজে। কারণ উনার জীবন ছিল অর্থপূর্ণ। একদিকে মুক্তি যুদ্ধে অংশগ্রহণ ও নিপীড়ন সহ্য করা,অন্যদিকে ভাস্কর্যের নতুন ধারা সৃষ্টি। ব্যক্তিগত জীবনের অনুষঙ্গটাকে তিনি অর্থপূর্ণ করেছেন। আমি উনাকে আর দেখব না, কিন্তু তার কাজগুলোকে দেখব। তার বইতে তিনি বেঁচে থাকবেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে তিনি বেঁচে থাকবেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ছেলে কারু তিতাস চ্যানেল আই অনলাইনকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।










