কাগজে কলমে মায়ের জম্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৫০। কিন্তু মায়ের কাছ থেকে পাওয়া কিছু তথ্য যেমন কাপ্তাই বাঁধ পরবর্তী সময়ে মায়ের অবস্থান আর বিয়ের বয়স হিসাবে আনলে তা আরো আগেই হবে। আমার মতে, মায়ের জম্ম ঠিক দেশ ভাগের বছরে। বাবার দেয়া তথ্য মতে, বিয়ের সময় মায়ের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। আবার কাগজে নামের বেলায় চৌধুরী থেকে মারমা লেখা হয়েছে। মায়ের আত্মীয়-স্বজনরা চৌধুরী টাইটেলটি ব্যবহার করলেও বাবা ভোটার তালিকায় মারমা টাইটেলটি ব্যবহার করেছেন। এমনটি হয়েছে হয়ত বাবার বয়সের কারণে। তবে মা নিজে স্বাক্ষর করলে কোনটি না লিখে শুধু নামের মূল অংশটি লিখে থাকেন।
সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে উহলা মং চৌধুরী ছিলেন মায়ের প্রিয় বন্ধু। উহলা মং দা বাড়িতে এলে মায়ের সাথে সারারাত উঠানে বসে গল্প করতেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে ভাই-বোনেরা কে কী করলো সব খবর পেতেন মায়ের কাছ থেকে। শাস্তির ব্যবস্থাসহ সবই চলতো সন্ধ্যা নামলে। তাই বড় ভাই ঘরে এলে আমাদের সবার গায়ে জ্বর চলে আসতো। মনে মনে প্রার্থনা চলতো তিনি যেন তাড়াতাড়ি তার পড়ালেখার স্থলে চলে যান। তিনি আবার শাস্তির ব্যবস্থা যেমন করতেন তেমনি সকলকে ভালও বাসতেন, যত্ন নিতেন। বাড়িতে এলে ভাইবোনদের জন্য তার সাধ্যমতো কাপড় চোপড় কিনে আনতেন। মায়ের ছোট খাট দাবি-দাওয়া, যেমন ঘরের রান্না সামগ্রীও কিনে দিয়ে যেতেন।
বড় ভাই আর মায়ের গল্পে কোন ভাই ভবিষৎতে কী করবে, বোনেরা কী নিয়ে পড়ালেখা করবে তার পরিকল্পনা হতো, যা আমি বুঝতে পারতাম। তবে একবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হঠাৎ বন্ধ ঘোষণার পর বড় ভাই সোজা গ্রামের বাড়িতে ফিরলেও মায়ের সাথে তেমন গল্প করেননি। দু’দিন দু’রাত যায় কোন শাস্তির আয়োজনও হয়নি। পরের দিন (সেপ্টেম্বর মাসে) সন্ধ্যা নামতে নামতে বুঝতে পারলাম বড়ভাই আর পৃথিবীতে নেই। বাড়িতে বাবা-মা আর আমি ছাড়া সেদিন কেউ ছিলেন না। মনে পড়ে, বাবা-মা দুজনই কিছু সময়ের জন্য শক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। বাবা এদিক সেদিক ছুটোছুটি করছিলেন। দু’জনকে একরুমে বসিয়ে রেখে সারারাত পাহারা দিয়েছিলাম সেই ছোট বয়সে। খুব কাছ থেকে মানুষের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছি বলে মৃত মানুষ দেখলে বা কারও মৃত্যুর খবর শুনলে আর ভয় হতো না। মৃত্যুকে মেনে নিয়েছি সেই বয়সে। বড় ভাইয়ের মৃত্যুতে মাকে অন্য দশটি মায়ের মতো হাউমাউ করে কাঁদতে দেখিনি। তবে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বড় ভাইয়ের পরবর্তী জীবনটি যেন সুন্দর ও দীর্ঘ হয় এ কামনা করে অনেক প্রার্থনা আর আর্শীবাদ করেছিলেন।
ছেলের মৃত্যুতে মায়ের হাউমাউ কান্নাকাটি না দেখে অনেকে অবাক হয়েছিলেন। অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল, কী করে সম্ভব এমনটা? কিন্তু আমি মাকে চিনি বলে বুঝতে পেরেছিলাম। তিনি ভেঙ্গে না পড়ে বরং শক্ত হাতে ‘দুর্যোগটি’ মোকাবিলা করে বাকী সন্তানদের সান্ত্বনা দিতে চেয়েছিলেন। আর তিনি বিপদে ভেঙ্গে পড়তে জানেন না বলেই সেই সময়ে মারমা সমাজের পড়ালেখা-বিমুখতা থেকে সন্তানদের বের করে আনতে পেরেছিলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে যুদ্ধ পরিস্থিতি, নিত্যদিন নানান জায়গায় হামলা, গ্রামের নদীর ওপারে একটি বিরাট ক্যাম্প আর নতুন নতুন সেটেলারদের বসতিসহ (নতুন বসতির সাথে সাথে পাড়ায় দ্রুত পরিবর্তন চলে আসে; যেমন, প্রাকৃতিকভাবে হাঁস লালন-পালন চিরতরে ধবংস হয়ে যায়। মায়ের সবকটি হাঁস একদিন না ফিরলে তিনি হাঁসের চাষ ছেড়ে দেন। নদীর ওপারে অবস্থিত পাড়ার শ্মশানটি হাতছাড়া হলে বন্যপ্রাণীদের অবাধ বিচরণ দ্রুত হারাতে শুরু করে। গ্রামীণ নারীদের যখন তখন অবাধে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সুযোগটিও তখন থেকে সীমিত হতে শুরু করে) নিত্য নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে করতে বিপদে নিজেকে সামলিয়ে নিতে শিখে ফেলেছিলেন। পড়ালেখার খরচ যোগাতে গিয়ে পরিবারে নানা অভাব অনটন লেগে থাকতো। এর মধ্যেও বড় দা’র মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দিনগুলো বেশ মনের আনন্দে কাটাতেন। সম্ভবত এ কারণেই মাকে দেখতে তার বয়সের তুলনায় বেশ কম বয়সী মনে হতো (অন্তত পরিচিত লোকজন এরকমই মন্তব্য করতেন)।
হয়ত স্বপ্ন ছিল, বড় ছেলে ডাক্তার হয়ে বের হলে দিন বদলের পালা শুরু হবে। কিন্তু ছেলের মৃত্যুতে আরো অনেক লম্বা পথ পাড়ি দিতে হতে পারে ভেবে, হয়তো, তিনি এর পর থেকে খুব দ্রুত বুড়ো হয়ে যেতে থাকেন। তিনি তার হারানো সেই সৌন্দর্য আর ফিরে পাননি। প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুকষ্ট ভিতরে ভিতরে তার বয়স বাড়িয়ে দেয়।
তিনি এমনই। কখনো নিজের কষ্ট প্রকাশ করেননি আমাদের কাছে। নিজের অভাব, অনুভূতি কখনো জানতে দেননি আমাদের। তার যা আছে তা নিয়ে হাসিমুখে থাকতে তিনি ভালবাসেন। যা আছে তা-ই পরিবেশন করে অতিথিদের খুশি করার চেষ্টা করেন। তবে বাবা তার ঠিক বিপরীত। বাবা চাপে থাকলে, অভাবে থাকলে তার কথাবার্তা আর আচরণ দিয়ে আমরা তা বুঝতে পারতাম। কিন্তু মা’কে বোঝা বেশ কঠিন। মা’র মধ্যে সব সময় সমান মনোবল আর সাহস দেখেছি। তবে পড়ালেখার ব্যাপারে তারা দুজনই ছিলেন খুবই আন্তরিক।
এক সময় মহালছড়ি এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ছিল। নানা উপজেলা থেকে আগত দুর্বল ছাত্র-ছাত্রীদের মিলন মেলা বসত ওখানে। সারা বছরে তাদের দেখা না মিললেও পরীক্ষার সময়ে শত শত পরীক্ষার্থীতে এলাকাটি ভরে যেতো। আমাদের বাড়িও তখন কানায় কানায় ভরে উঠতো। মা যত ছাত্র-ছাত্রীকে রান্না করে খাইয়েছেন তাদের তালিকা করলে তা অনেক লম্বা হবে, যাদেরকে আমি নামে না চিনলেও মুখ দেখলে মনে করতে পারি। তাদের একটি বিরাট অংশ ছিল খাগড়াছড়ি সদর থেকে আসা।
এখানে একটি কথা বলে রাখা ভাল, মারমা ছাত্র-ছাত্রীরা অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে বেশ পৃথক। চাকমা ও ত্রিপুরা ছাত্র-ছাত্রীরা আমাদের সাথে পথে-ঘাটে দেখা হলে এখনো কথা বলেন, খোঁজ-খবর রাখে; কিন্তু কোন মারমা ছাত্র বা ছাত্রী আমাকে, বাবা-মাকে পথে-ঘাটে দেখে ওই মাসখানিক সময়ের সম্পর্কের সূত্র ধরে আমাদের সাথে কথা বলেছেন বা যোগাযোগ রেখেছেন এমনটা দেখিনি। আমরা মারমারা যে অন্যদের তুলনায় শিক্ষায় পিছিয়ে আছি এর পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে।
পরিবার থেকে পাওয়া এমন সহযোগিতামূলক শিক্ষাটি কিন্তু আমার ভাইদের মধ্যেও প্রত্যক্ষ করি। বড় ভাই চট্টগ্রাম মেডিকেলের ছাত্র থাকাকালে পাহাড়ে বসবাসকারী সকল জনগোষ্ঠীর প্রতি মন থেকেই সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। তার মৃত্যুর অনেক বছর পরও তার দ্বারা উপকৃত লোকজনদের অনেকে এমন প্রশংসা করেন। পাড়ায় এলে তিনি পাড়াবাসীদের বলে যেতেন তারা যেন হাসপাতালে যান। তিনি ডাক্তারদের রুমে বসে থেকে পাড়াবাসীদেরকে রোগের বিস্তারিত বর্ণনা করতে সাহায্য করতেন, তাদেরকে সঠিক ঔষধ পাইয়ে দিতেন। পাড়ায় তার পছন্দের শিশুদেরকে তিনি সারাদিন কাঁধে নিয়ে বেড়াতেন।
সুইহলা মং দাকেও একটি বিরাট সময় ধরে ঝরে-পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহ যোগানোয় আত্মনিয়োগ করতে দেখেছি। তার কিছু স্কলার বন্ধু আর পরিচিতজনদের (যেমন সুগত চাকমা ও তার পরিবার) নিয়ে ইংরেজি আর অংক পড়াতেন। তাঁর প্রচেষ্টায় খাগড়াছড়ি জেলা সদর হতে দলে দলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জোয়ার শুরু হয়।
সুইহলা দা’র উদ্যোগ সম্পর্কে একদিন ঢাকায় আথুই মারমা’র (বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বর্তমানে চীনে পিএইচডিতে অধ্যয়নরত) মুখে শুনেছিলাম। আমিও মারমা সহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তরুণদের জন্য শিক্ষা প্রকল্প চালু করেছিলাম যা ‘বান্দরবানের সেই ছেলেটি’ শিরোনামে একটি লেখায় বলেছি। আমার ছোট দুই ভাই গ্রামে থাকলে সবচেয়ে আনন্দিত হয় ছোটছোট ছেলে-মেয়েসহ তরুণ-তরুণীরা। ছোট দুই ভাইয়ের অস্ট্রেলিয়ার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেও তা পাড়ার খেটে খাওয়া সন্তানদের সাথে প্রতিদিন খেলাধুলা আর দুর কোন বনে গিয়ে পিকনিক করতে কোন বাধা হতে পারেনি। এখানেই আমার মা বাবার সার্থকতা।
রাজবাড়ি মানিকছড়িতে থাকাকালে মা চাকমা ভাষা রপ্ত করেছিলেন। রাজবাড়িতে তার সমবয়সী অনেক চাকমা’র সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল। তাদের সাথে থাকতে গিয়ে ভাষাও শিখে ফেলেছিলেন। তার এই ভাষা-দক্ষতা আমাদেরও শিখিয়েছিলেন, যার দরুণ আমরা সকলে চাকমা ভাষায় বেশ পারদর্শী। মাতৃভাষার মতোই ভালবাসা নিয়ে চাকমা ভাষায় যোগাযোগ করতে পারি।
আমি খুব গর্ব করে বলি আমার মা-বাবা নির্লোভ এক দম্পতি, এক পরিবার। মায়ের দেয়া তথ্য মতে, বাবা স্বাধীনতার আগে ও পরে বাজার কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসহ সরকার কর্তৃক মনোনীত ইউনিয়ন কাউন্সিল মেম্বারও ছিলেন (একই সময়ে দাদু বাইন্দক কারবারীও প্রত্যক্ষ ভোটে মেম্বার হয়েছিলেন, যখন মহালছড়ি থানার সীমানা ছিল বর্তমান লক্ষীছড়ি উপজেলা পর্যন্ত)। এলাকার একজন শিক্ষিত মেট্রিকুলেশন পাশ হিসেবে অন্তত বাজারে দুটি প্লট থাকতে পারতো, কিন্তু তিনি সে পথে হাঁটেননি। বাবা সার্টিফিকেটবিহীন একজন মুক্তিযোদ্ধাও। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের একজন থানা সভাপতি হিসেবে নানাভাবে সহায়তা করার উদাহরণ পাওয়া যায় (এলাকায় তাকে ব্যাপক খোঁজাখুজি হলে পালাতে বাধ্য হন)।
আমাদের ভাইবোনদের মধ্যেও কারো কোন অর্থ সম্পদ নেই। অর্থ সম্পদ আর চাকরির নিশ্চয়তাকে কেউ লক্ষ্য করেননি, প্রাধান্য দেননি। আমরা উন্নয়নকর্মী হিসেবে যেখানে চাকরি করেছি, সম্মান নিয়ে করতে চেয়েছি, যেখানে স্বার্থপরতা দেখেছি, উন্নয়নের নামে অনুন্নয়ন দেখেছি সাথে সাথে ছেড়ে দিয়েছি। ভাইবোনদের মধ্যে প্রায় সকলে শিক্ষিত হলেও সমসাময়িক বন্ধু বান্ধবরা যা করতে পেরেছে, যে সম্পদের মালিক হতে পেরেছে আমরা তা করতে পারিনি। এটিই আমার মা-বাবার শিক্ষা, ভালবাসা। কারণ মা আমাদের প্রত্যেককে একবার মাত্র বলেছিলেন ‘আমার নামে কোন অভিযোগ তোমরা কি শুনেছো? মনে রাখবে আমিও তোমাদের ব্যাপারে কোন অভিযোগ শুনতে চাইনা।’ এটিই আমাদের পরিবারের গর্ব। আমাদের পরিবারে অর্থ নেই, সম্পদ নেই, সুন্দর একটি বাড়িও নেই, তবে শিক্ষা আছে, অনেক অনেক বই আছে, উপকার করার ইচ্ছা আছে, সৎ সাহস আছে। তাই যেখানে যাই মা-বাবার সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে ভাল লাগে, সাহস পাই।
আমাদের বাড়িতে আত্মীয়স্বজনদের নিত্যদিনের আসা যাওয়া ছিল, ছিল কৃষি কাজের ব্যস্ততা, একটি বৌদ্ধ মন্দির পরিচালনার ভার, আর আমাদের অনেকগুলো ভাই-বোন। বাজার সামলাতেন বাবা। বাজারটি কাছাকাছি হওয়ায় দিনে দুই বা ততোধিকবার যাওয়া আসা চলতো। প্রতিদিন মাছ ছিল আমাদের একটি সাধারণ অত্যাবশ্যক তরকারি। সব মিলে বিশাল পরিবার, কিন্তু বাবা কিনতেন ১ পোয়া মাছ কিংবা ১ পোয়া মাংস (শুকর মাংস)। মুরগি আর হাঁসের ডিম প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর থেকে পাওয়া যেতো। আমাদের পরিচিতজনরা এখনো অবাক হন, গ্রামের কাছে-পিঠের লোকজন জিজ্ঞেস করতো ‘কিভাবে খাও এক পোয়া মাছ দিয়ে’? আমরাও মজা করে উত্তর দিতাম, ‘মায়ের কাছে ছোট চামচ আছে, চামচে বেশি ওঠলে ঠোকা দিয়ে ওপরের অংশ ফেলে দেয়’, ইত্যাদি। এখন বুঝতে পারি, মায়ের হাতের জাদুকরী রান্নার কারণে, কিছু কৌশলাদির সাথে আনন্দ দিয়ে রান্না করতেন তিনি, অল্পতে আমাদের সকলের খাওয়া হয়ে যেতো। ভাল রান্নার গন্ধে অনেক খাওয়া হয়ে যায়।
আমার মা, শ্রেষ্ঠ জয়িতা ২০১৮ (২০১৭ সালে ৮টি বিভাগের নির্বাচিত ৪০জন জয়িতা থেকে ৫টি ক্যাটাগরিতে ৫জনকে নির্বাচিত করা হয়; মা নির্বাচিত হন সফল জননী ক্যাটাগরি থেকে)-এর কাছ থেকে জানার অনেক কিছু আছে। ১১ ছেলেমেয়ের লালন-পালন, বাবার অল্প বেতন দিয়ে সংসার আর পড়ালেখা চালিয়ে নেয়ার উপায়, বাবাকে মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য পরিহারে রাজী করানোর কৌশলাদি, গ্রাম অঞ্চলে সকলের সাথে মিলেমিশে থাকার কৌশলাদি, জামাতা ও পুত্রবধূদের একত্রে মিলেমিলে রাখার কৌশলাদি, দ্বন্দ্ব নিরসনের কৌশলাদি, রাজবাড়ি ছেড়ে সাধারণ ঘরে পুত্রবধূ হয়ে আসা আর সবকিছুকে মানিয়ে নেয়ার কৌশলাদি জানার সুযোগ রয়েছে। আামার মায়ের সাথে কারো ঝগড়ার কোন ঘটনা নেই (পাহাড় বার্তায় প্রকাশিত ‘আমার মা’ শিরোনামে লেখায় আরো বিস্তারিত বলা হয়েছে)। তিনি তার সকল নাতি-নাতনীর কাছে সমান জনপ্রিয় এক ‘ববং’। আমার মায়ের সাথে আরও যে ৪ জন শ্রেষ্ঠ জয়িতা ২০১৮ হয়েছেন তাদেরকেও অনেক অনেক অভিনন্দন!!
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)।







