লুৎফর রহমান রিটন। জনপ্রিয় ছড়াকার। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অটোয়ায়। এখন যাচ্ছেন নিউইয়র্কে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আজ বুধবার অটোয়ার টিউলিপ উৎসব নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন—
টিউলিপ উৎসব চলছে অটোয়ায়। এই সময়টায় খুবই আনন্দে থাকি আমি। উৎসবের প্রথম দিন থেকেই ডাউজ লেকের পাড়ে ফুটে থাকা অজস্র টিউলিপের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়, সখ্য হয়। কলিগুলোর আস্তে ধীরে ফুল হয়ে ফোটার মুহূর্তগুলো আমি উপভোগ করি। মুগ্ধ হয়ে দেখি কলিদের টিউলিপ হয়ে ওঠার দুরন্ত সময়টাকে। কিশোরীদের তরুণী হয়ে ওঠার মতোই ঝলমলে ও চকচকে, এই সময়টা। আমি ওদের দেখতে যাই রোজ রোজ, প্রতিদিন।
অটোয়া টিউলিপ ফেস্টিভ্যালে প্রতি বছরই কিছু নতুন ফুলের আগমন ঘটে। যে ফুলগুলোকে আমার কখনোই টিউলিপ বলে মনে হয় না। রঙে রূপে ওরা অনন্যসাধারণ হলেও চেহারা আকৃতিতে মোটেও টিউলিপসুলভ নয়। এমনকি চেহারা সুরতে টিউলিপের কাজিন পর্যায়েরও কেউ নয় বলেই মনে হয়। এই যেমন এই ফুলগুলো। এরা গোলাপের খালাতো মামাতো ভাইবোন হলে মেনে নেয়া যেতো কিন্তু টিউলিপ? কাভি নেহি।

চোখ ধাঁধানো পাঁচ পাঁচটি উজ্জ্বল রঙের ফুলগুলোর খুব বাহারী একেকটা নামও আছে। মিরান্ডা, ডাবল ইউ, এবিগেইল, রিনাউন ইউনিক এবং সান লাভার নামের এই ফুলগুলোর অবস্থান একটি নির্দিষ্ট কোর্টে, একসঙ্গে। এবং ডাউজ লেকের এই জায়গাটাই সবচে বর্ণাঢ্য।
গতকাল ওদের সঙ্গে শেষ দেখা করে এসেছি, এবারের মতো। আর দেখা হবে না। কারণ আজই আমি নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে অটোয়া ছেড়ে যাচ্ছি। নিউইয়র্ক যাত্রার উপলক্ষ মুক্তধারার বইমেলা কিন্তু লক্ষ্য বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে প্রিয় আমীরুল-মাযহাররা এসে গেছে। ওদের সঙ্গে স্বপ্নময় কিছু দিবস-রজনী কাটবে আমার। এছাড়া বইমেলায় বাংলাদেশ থেকে আসছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং কয়েকজন লেখক-প্রকাশক বন্ধুও। ঢাকা ও নিউইয়র্কের বন্ধুদের সঙ্গে অবিরাম জম্পেশ আড্ডায় সামনের কয়েকটা দিন কী ভাবে কেটে যাবে টেরই পাবো না। আর আমি ফিরতে ফিরতে সমাপ্ত হয়ে যাবে অটোয়া টিউলিপ ফেস্টিভ্যালও।
সুতরাং বিদায় হে অনিঃশেষযৌবনা পুষ্পসুন্দরীবৃন্দ!
অটোয়া, ১৭ মে ২০১৭








