নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত শুরুর পরও পথ হারায় বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে এক উইকেটে ১২১ রান থেকে শেষ পর্যন্ত অলআউট হয়ে যায় ২৩৪ রানে। এমন ব্যাটিং ধসে কিউই বোলারদের কৃতিত্বের চেয়ে নিজেরই বেশি দোষ দিচ্ছেন তামিম। বলেছেন, হ্যামিল্টনের সবুজ উইকেট বোলারদের কিছুটা সুবিধা দিলেও ব্যাটসম্যানরাই তাদের বেশি সুযোগ দিয়েছে।
১২৮ বলে ১২৬ রান করে আউট হন তামিম। দিনশেষে তিনি বলেন, ‘তারা (নিউজিল্যান্ড বোলার) অনেক ভালো বল করেছে। কিন্তু আপনি যদি আমাদের আউটগুলো দেখেন, তাহলে লক্ষ্য করবেন যে, আমরা কোনো দুর্দান্ত ডেলিভারিতে আউট হইনি। আমরা হয়তো তাদের পরিকল্পনা মতো সাহায্য করেছি বা ভুল শট খেলে আউট হয়েছি।’
উইকেট নিয়ে তামিম বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে উইকেটটা খুবই ভালো। এটা সবুজ উইকেট, তবে সত্যি বলতে কি, ততটা নয়। আমরা যা করেছি তার চেয়ে আরো বেশি রান করা উচিত ছিল। দিনের শেষে আমরা শুধু নিজেদেরই দোষারোপ করতে পারিব।’
নিজেদের ব্যাটিংয়ের কথা উল্লেখ করে টাইগার ওপেনার বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ভালো ব্যাট করেছি। আমরা যখন ভালো ব্যাট করেছি, ঠিক একই সময় ভুলও করেছি, উইকেট ছুড়ে এসেছি। এটা খুবই হতাশাজনক, কারণ এই রকম কন্ডিশনে ওই রকম শুরু করাটা আমাদের স্বপ্নই ছিল। এমন দুর্দান্ত শুরু করে বড় সংগ্রহ করতে না পারা আসলেই হতাশার।’
বাংলাদেশের ২৩৪ রানের জবাবে বিনা উইকেটে ৮৬ রান তুলে দিনশেষ করেছে নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের এখনো ১৪৮ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। তবে প্রথমদিন শেষে ম্যাচের চালকের আসনেই রয়েছে কিউইরা। তামিমের মুখেও একই রকম কথা, ‘তারা অবশ্যই এগিয়ে আছে। আমাদেরও দিনটাকে ভালোভাবে শেষ করার সুযোগ ছিল, কিন্তু আমাদের নিজেদের দোষারোপ করা ছাড়া উপায় নেই।’
অনেক হতাশার মধ্যে তামিমকে একটু স্বস্তি দিচ্ছে তার নিজের ব্যাটিং। টেস্ট সিরিজের আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তার ব্যাট থেকে এসেছিল মাত্র ১০ রান। তাই এটা তার জন্য ছিল একটি মুক্তির মুহূর্ত। তার ওপর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এর আগে কখনো সেঞ্চুরি করা হয়নি তামিমের।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার সেঞ্চুরিকে বড় করে দেখতে চাই না। তবে আমি যে ব্যাটিং করেছি সেটা খুবই বিশেষ। যে শটগুলো খেলেছি, তার জন্য আমি খুশি। আমার স্পষ্ট পরিকল্পনা ছিল, মারার বল পেলে মারব, সেটাই করেছি। ভাগ্যক্রমে শুরুর দিকে কিছু বাউন্ডারিও পেয়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত সেটা কাজে দিয়েছে।’






