কিংবদন্তি নির্মাতা, লেখক ও গীতিকার আমজাদ হোসেন নেই এক বছর! গেল বছরের এই দিনে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন তিনি। মৃত্যুদিনে তাঁকে স্মরণ করে এফডিসিতে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।
এদিকে বাবার অনুপস্থির বিষয়টি মৃত্যু দিনে ব্যাখ্যা করেন আমজাদ হোসেনের ছোট ছেলে সোহেল আরমান। প্রয়াত বাবার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দিনে দিনে কতদিন পার হয়ে গেলো, কতদিন ভালো করে দেখিনা তোমাকে। মাঝে মাঝে ভুলেই যাই তুমি আর নেই, মনে হয় বাইরে কাজে বের হয়েছো একটু পরেই বাড়ি ফিরবে। নাহ, তুমিতো ভীষণ একা করে রেখে চলে গেছো ওপারে!’
ব্রেন স্ট্রোক করে গত বছরের ১৮ নভেম্বর তেজগাঁয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মাইলস্টোন ছবি ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র নির্মাতা আমজাদ হোসেন। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই ছিলেন টানা লাইফ সাপোর্টে। তার অবস্থা দেখে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, কোনো মিরাকল না ঘটলে বাঁচানো যাবে না আমজাদ হোসেনকে।
কোনো মিরাকল ঘটেনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে প্রায় ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান এই কিংবদন্তি নির্মাতা।
আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় জনপ্রিয়তা পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।
১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া নানামাত্রিক কাজের জন্য ১৪ বার জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একইসাথে বাংলা একাডেমী পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।









