এবার ভুয়া আবেদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তথ্য চুরির যে ঘটনা তাকে ‘অশনি সংকেত’ বলে মনে করছে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রাথমিকভাবে সাধারণ তথ্য হাতিয়ে নিয়ে পরে যেকোন সময় যেন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে যেতে পারে হয়তো সেই চেষ্টা করেছিল প্রতারক চক্র। তবে এতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা নেয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে। প্রতিষ্ঠানটির সব স্তরের কর্মকর্তাকে রীতিমত ঘোষণা দিয়ে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু তথ্য হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বড় ধরনের কেনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। সাথে সাথেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছে গত ৯ অক্টোবর চিঠি পাঠান পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। ওই দিন গভর্নর ফজলে কবির দেশের বাইরে ছিলেন। তবে, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যেসব তথ্য প্রতারক চক্র নিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে তাতে কোন ক্ষতি নেই। কারণ বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তালিকা নিয়েছে তারা। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটেও দেয়া থাকে।
তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারক চক্র হয়তো প্রাথমিকভাবে সাধারণ তথ্য নিয়ে পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো নেয়ার পথ সহজ করতে চেয়েছিল। তাই এই ঘটনাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাবে না। এটা ভবিষ্যতের জন্য অশনি সংকেত।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, মন্ত্রণালয়গুলো থেকে কোন তথ্য চাওয়া হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু প্রতারক চক্র অভিনব কায়দায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবহার করে তথ্য নেয়ার যে প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছে তা বুঝা আসলেই দুরূহ ব্যাপার ছিল।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি কোনো বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়ার ক্ষেত্রেও বার বার চেক করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (ইউএন বা জাতিসংঘ অনুবিভাগ) পরিচয় দিয়ে জনৈক নাসির আহমেদ দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) তালিকা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি পাঠায়। ওই চিঠি পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা নাসির আহমেদকে তালিকা দিয়ে দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নাসির আহমেদকে তালিকা দেওয়ার পর গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। এরপরই জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। কারণ, নাসির আহমেদ নামে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনও পরিচালকই নেই।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গত ৯ অক্টোবর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে আমরা একটি পত্র পাই। যার মাধ্যমে তথাকথিত নাসির আহমেদ, পরিচালক (ইউএন) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করত, দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককের তালিকা দেওয়া হয়েছে।
‘কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নাসির আহমেদ নামে কোন পরিচালক কর্মরত নেই। জাতিসংঘ অনুবিভাগেও (ইউএন) এই নামে কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর্মরত নেই। এ কারণেই পত্র পাওয়া মাত্র আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করি।
‘জানতে পারি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক পরিচয় দিয়ে জনৈক নাসির আহমেদ সব তফসিলি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের তালিকা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের কাছে জাল চিঠি পাঠিয়েছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যক্তিকে তালিকা পাঠানো হয়েছে। আমরা ওই বিভাগ থেকে আরও জানতে পেরেছি, ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জালিয়াতকারী নাসির আহমেদকে ওই তালিকার সফট কপি ই-মেইলের মাধ্যমেও পাঠানো হয়েছে। তাই এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে গভর্নরকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।’







